সংবাদ শিরোনাম ::
‘মিথ্যা’ অভিযোগে প্রবাসী ও তার পরিবারকে লাগাতার হয়রানি
বিশেষ প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ফরিদগঞ্জে হোসেন আলী নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসী ও তার পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে লাগাতার হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মো. আওলাদ শেখ ও খোকন শেখ এর বিরুদ্ধে । উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। সাংবাদিক না হয়েও ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় আইনের অপব্যবহার ও প্রশাসনকে বার বার বিভ্রান্ত করে নিরপরাধের বিরুদ্ধে আদালতে ও সংশ্লিষ্ট থানায় একেরপর এক অভিযোগের কারণে স্থানীয়দের মাঝেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীর বিচার দাবী করছে ভুক্তভোগীরা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মালয়েশিয়া প্রবাসী হোসেন আলী এর ছোট ভাই মো. ওসমান আলী নয়নের তত্বাবধানে ঢাকার মুগদা থানার আওতাধীন মান্ডা এলাকায় নির্মাণাধীন পাকা বিল্ডিং থেকে মো. আওলাদ শেখ ও তার সহযোগী খোকন শেখ গংরা প্রথমে কৌশলে চাঁদাবাজীর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরবর্তিতে মো. আওলাদ শেখ ও খোকন শেখ গংরা একটি সন্ত্রাসী চক্রকে ব্যবহার করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ওই বিল্ডিংটির নির্মাণ কাজের সাথে সম্পৃক্ত মো. আরিফ হোসেন ও মো. মেহেদী হাসান নামের দুইজন ব্যক্তিকে অপহরণ করে ১১ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপহরণের এ ঘটনার সাথে মো. আওলাদ শেখ গংদের সম্পৃক্ততা পেলে স্থানীয়ভাবে বৈঠকে তারা তা স্বীকার করে। পরবর্তিতে ফরিদগঞ্জ থানায় সমাঝোতা বৈঠক শেষে সমাধান না হওয়ায় মো. আরিফ হোসেন বাদী হয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আদালতে সিআর মামলা নং ৩২০/২৫ দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় আদালত খোকন শেখের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী আদেশ জারি করলে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেন। এতে মো. আওলাদ শেখ নিজেদের অপরাধ আঁড়াল করতে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে একেরপর এক নাটকীয় অভিযোগ এনে মামলা ও অভিযোগ দিয়ে ভুক্তভোগীদের হয়রানী করে আসছে।
মো. আওলাদ শেখের দেওয়া চাঁদপুর সদর থানায় সি.আর মামলা নং ৭৭৬/২০২৬ ইং তারিখের একটি অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী হোসেন আলী , তার ভাই মো. ওসমান আলী নয়ন ও মো. হাসান শেখ গং গত ২২ ও ২৩ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে মো. আওলাদ শেখের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী ও তার মুরগীর খামারের ৩ শতাধিক মুরগি মেরেছে এবং তার বসতঘর ভাংচুর করে নষ্ট করে ফেলছে।
মো. আওলাদ শেখের অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইসমাইল হোসেন, মো. মিজানুর রহমান, শরীফ হোসেন ও ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা কামাল বলেন, মো. আওলাদ শেখের বাড়িতে এমন কোন ঘটনাই ঘটে নাই। বাড়ির এজমালি সম্পত্তিতে থাকা একটি পরিত্যাক্ত ঘর মো. আওলাদ শেখ নিজে সরিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে মালয়েশিয়া প্রবাসী হোসেন আলী গংদের বিরুদ্ধে। তার বাড়িতে মুরগির খামার কখনো ছিলনা।
তারা আরও বলেন, এখন আবার নতুন অভিযোগ এনে ফরিদগঞ্জ থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছে মালয়েশিয়া প্রবাসী হোসেন আলী গংদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আওলাদ শেখের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে কল দিলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। খোকন শেখের স্ত্রী সাথী বেগম বলেন, গত ১২ অক্টোবর রাতে আমাদের বসত বিল্ডিং এর জানালায় কারা যেন একটি ইট মেরেছে। আমরা কাউকে দেখি নাই।
মালয়েশিয়া প্রবাসী হোসেন আলীর বাড়িতে থাকা বড় ভাইয়ের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, আওলাদ শেখ ও খোকন শেখ গংরা বিনা কারনে আমাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে আসছে। সন্তানদের নিয়ে আমরা বাড়িতে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। আমরা সরকার ও বিচার বিভাগের কাছে এর প্রতিকার চাই।
এদিকে মালয়েশিয়া প্রবাসী হোসেন আলী বলেন, আমি গত ২০ বছর যাবত প্রবাসে রয়েছি। দশ দিনের ছুটি কাটিয়ে গত ০২ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে আমি পুনরায় মালয়েশিয়া চলে আসছি। কিন্তু আওলাদ শেখের দ্বারা হয়রানীর উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে তিনি দাবী করেন, চলতি বছরের ২২ ও ২৩ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে আমি দেশে তার ক্ষয়ক্ষতি করেছি অথচ ওই সময় আমি মালয়েশিয়ায় ছিলাম,আমি এখানে সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি এবং বৈধ পথে বাংলাদেশে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছি। প্রকৃতপক্ষে মো. আওলাদ শেখ পেশাদার প্রতারক ও ব্ল্যাকমেইলার। একজন প্রবাসী হিসেবে আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
ফরিদগঞ্জ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক মো. বোরহান উদ্দিন মজুমদার বলেন, মো. আওলাদ শেখের একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে তাদের পূর্ব বিরোধ রয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে, প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রদান করা হবে।
চাঁদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের গোয়েন্দা শাখার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, বিজ্ঞ আদালতে আওলাদ হোসেন শেখের দেওয়া একটি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রকৃত দোষির বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট বিজ্ঞ বিচারিক আদালতে প্রেরণ করা হবে।
ঢাকা মুগদা থানার উপপুলিশ পরিদর্শক এমদাদ হোসাইন বলেন, আওলাদ হোসেন শেখ গংদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একটি মামলার তদন্তের দায়িত্বভার আমাকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলাকালিন সময়ে তাদের অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে রিপোর্ট প্রেরণ করা হয়েছে।




















