ফরিদগঞ্জ ১১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদগঞ্জ কে. আর. আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফুটবল উৎসব দুর্যোগ মোকাবিলায় ৫২ স্কাউদেটের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ফরিদগঞ্জে টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের আত্মপ্রকাশ এক সপ্তাহে ২০ চুরি, আতঙ্কে ফরিদগঞ্জবাসী ফরিদগঞ্জে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এর মধ্যস্থতায় পাউবির খাছ বিক্রি! থানায় অভিযোগ গাব্দেরগাঁও গ্রামে আদালতের রায়ের পরও মিলছে না জমির দখল ফরিদগঞ্জে তিনদিন ব্যাপি পিআইবি’র প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন ফরিদগঞ্জে সরকারি সম্পত্তি দখল করে ভবণ নির্মাণের অভিযোগ ১২ বছর পালিয়েও চাকরি বহাল! ফরিদগঞ্জে মাদ্রাসা সুপারের নজিরবিহীন জালিয়াতি

ফরিদগঞ্জ কে. আর. আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফুটবল উৎসব

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

মাঠজুড়ে তখন উত্তেজনার ঢেউ। কখনো এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে যাচ্ছে বল, কখনো গ্যালারি কাঁপছে উল্লাসে। শেষ বাঁশির অপেক্ষায় যেন থমকে ছিল পুরো মাঠ। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যখন রেফারির শেষ বাঁশি বেজে উঠল, তখন আনন্দে মাতল ‘দুরন্ত একাদশ’। ৪-২ গোলের জয় নিয়ে তাদের হাতে উঠল আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর চ্যাম্পিয়ন ট্রফি।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় ফরিদগঞ্জ কে. আর. আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে দিনটি হয়ে উঠেছিল যেন ছোট্ট এক ক্রীড়া উৎসব।

ফাইনালে মুখোমুখি হয় ‘দুরন্ত একাদশ’ ও ‘আইডিয়াল একাদশ’। শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। গোলের পর গোল, মুহূর্তে বদলে যাচ্ছিল ম্যাচের চিত্র। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের ব্যবধানে আইডিয়াল একাদশকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে দুরন্ত একাদশ। তবে এই টুর্নামেন্টের গল্প কেবল একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের এক অন্যরকম অধ্যায়।
টুর্নামেন্টের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষক সরাসরি মাঠে নেমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খেলেছেন। শ্রেণিকক্ষের পরিচিত শিক্ষককে সেদিন দেখা গেছে ফুটবল মাঠে সতীর্থ হিসেবে। কখনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে দৌড়েছেন, কখনো গোলের জন্য লড়েছেন। ফলে মাঠটি শুধু প্রতিযোগিতার জায়গা থাকেনি; হয়ে উঠেছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দূরত্ব ঘুচিয়ে দেওয়ার এক আনন্দমঞ্চ।
টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন জিয়াউর রহমান জিয়া।

ফাইনাল উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নূরুন্নবী নোমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এমডিএসের স্বত্বাধিকারী এফ. এ. মানিক ও দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের সাংবাদিক শামীম হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুন্নবী নোমান আয়োজনটির প্রশংসা করে বলেন, “ফরিদগঞ্জ কে. আর. আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নিজস্ব উদ্যোগে এত বড় ও সুন্দর একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে, যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা না থাকলে কোনো কিছুরই পূর্ণতা আসে না। খেলাধুলা পড়ালেখারই একটি অপরিহার্য অঙ্গ।”
তিনি বলেন, এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রমাণ করেছে সরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো তারাও ক্রীড়াক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে অংশ নিতে পারে। ভবিষ্যতে এই ধারা ধরে রাখতে তিনি বিদ্যালয়টির পাশে থাকার আশ্বাস দেন। ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও অনুরোধ করবেন বলে জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি এফ. এ. মানিক বলেন, “ফরিদগঞ্জ কে. আর. আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শুরু থেকেই আমি এই স্কুলের পাশে আছি। খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষা সফরসহ স্কুলের সব ভালো কাজে আমি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।” এমন বড় ও সফল আয়োজনের জন্য তিনি বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক শামীম হাসানের বক্তব্যে ফুটে ওঠে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের অন্যরকম এক আবেগ। তিনি বলেন, “ফরিদগঞ্জ কে. আর. আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাছুম আলম তালুকদার স্যার আমার পরম শিক্ষাগুরু। তাঁর কাছ থেকেই আমি সব কাজের অনুপ্রেরণা পেয়েছি। আমার প্রিয় শিক্ষকের এমন একটি বিশাল ও সফল আয়োজন দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। শিক্ষক হিসেবে স্যারকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। করতালি, উল্লাস আর আনন্দের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ফুটবল উৎসব।
একটি টুর্নামেন্টের পর্দা নেমেছে, হাতে উঠেছে একটি ট্রফি। কিন্তু দিনের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো ট্রফির চেয়েও বড় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একই মাঠে দাঁড়িয়ে শিখেছে একে অন্যের সঙ্গে লড়তে, আবার একে অন্যের জন্য হাততালি দিতেও। কারণ ফুটবল শুধু গোলের খেলা নয়; কখনো কখনো এটি সম্পর্কেরও খেলা। আর সেই খেলায় জয়ী হয়েছে পুরো আইডিয়াল পরিবার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফরিদগঞ্জ কে. আর. আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফুটবল উৎসব

আপডেট সময় : ০৫:০৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

মাঠজুড়ে তখন উত্তেজনার ঢেউ। কখনো এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে যাচ্ছে বল, কখনো গ্যালারি কাঁপছে উল্লাসে। শেষ বাঁশির অপেক্ষায় যেন থমকে ছিল পুরো মাঠ। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যখন রেফারির শেষ বাঁশি বেজে উঠল, তখন আনন্দে মাতল ‘দুরন্ত একাদশ’। ৪-২ গোলের জয় নিয়ে তাদের হাতে উঠল আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর চ্যাম্পিয়ন ট্রফি।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় ফরিদগঞ্জ কে. আর. আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে দিনটি হয়ে উঠেছিল যেন ছোট্ট এক ক্রীড়া উৎসব।

ফাইনালে মুখোমুখি হয় ‘দুরন্ত একাদশ’ ও ‘আইডিয়াল একাদশ’। শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। গোলের পর গোল, মুহূর্তে বদলে যাচ্ছিল ম্যাচের চিত্র। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের ব্যবধানে আইডিয়াল একাদশকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে দুরন্ত একাদশ। তবে এই টুর্নামেন্টের গল্প কেবল একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের এক অন্যরকম অধ্যায়।
টুর্নামেন্টের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষক সরাসরি মাঠে নেমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খেলেছেন। শ্রেণিকক্ষের পরিচিত শিক্ষককে সেদিন দেখা গেছে ফুটবল মাঠে সতীর্থ হিসেবে। কখনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে দৌড়েছেন, কখনো গোলের জন্য লড়েছেন। ফলে মাঠটি শুধু প্রতিযোগিতার জায়গা থাকেনি; হয়ে উঠেছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দূরত্ব ঘুচিয়ে দেওয়ার এক আনন্দমঞ্চ।
টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন জিয়াউর রহমান জিয়া।

ফাইনাল উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নূরুন্নবী নোমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এমডিএসের স্বত্বাধিকারী এফ. এ. মানিক ও দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের সাংবাদিক শামীম হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুন্নবী নোমান আয়োজনটির প্রশংসা করে বলেন, “ফরিদগঞ্জ কে. আর. আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নিজস্ব উদ্যোগে এত বড় ও সুন্দর একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে, যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা না থাকলে কোনো কিছুরই পূর্ণতা আসে না। খেলাধুলা পড়ালেখারই একটি অপরিহার্য অঙ্গ।”
তিনি বলেন, এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রমাণ করেছে সরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো তারাও ক্রীড়াক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে অংশ নিতে পারে। ভবিষ্যতে এই ধারা ধরে রাখতে তিনি বিদ্যালয়টির পাশে থাকার আশ্বাস দেন। ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও অনুরোধ করবেন বলে জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি এফ. এ. মানিক বলেন, “ফরিদগঞ্জ কে. আর. আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শুরু থেকেই আমি এই স্কুলের পাশে আছি। খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষা সফরসহ স্কুলের সব ভালো কাজে আমি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।” এমন বড় ও সফল আয়োজনের জন্য তিনি বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক শামীম হাসানের বক্তব্যে ফুটে ওঠে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের অন্যরকম এক আবেগ। তিনি বলেন, “ফরিদগঞ্জ কে. আর. আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাছুম আলম তালুকদার স্যার আমার পরম শিক্ষাগুরু। তাঁর কাছ থেকেই আমি সব কাজের অনুপ্রেরণা পেয়েছি। আমার প্রিয় শিক্ষকের এমন একটি বিশাল ও সফল আয়োজন দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। শিক্ষক হিসেবে স্যারকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। করতালি, উল্লাস আর আনন্দের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ফুটবল উৎসব।
একটি টুর্নামেন্টের পর্দা নেমেছে, হাতে উঠেছে একটি ট্রফি। কিন্তু দিনের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো ট্রফির চেয়েও বড় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একই মাঠে দাঁড়িয়ে শিখেছে একে অন্যের সঙ্গে লড়তে, আবার একে অন্যের জন্য হাততালি দিতেও। কারণ ফুটবল শুধু গোলের খেলা নয়; কখনো কখনো এটি সম্পর্কেরও খেলা। আর সেই খেলায় জয়ী হয়েছে পুরো আইডিয়াল পরিবার।