ফরিদগঞ্জ ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদগঞ্জে সরকারি সম্পত্তি দখল করে ভবণ নির্মাণের অভিযোগ ১২ বছর পালিয়েও চাকরি বহাল! ফরিদগঞ্জে মাদ্রাসা সুপারের নজিরবিহীন জালিয়াতি ফাঁকা ঘরই ছিল টার্গেট।। দক্ষিণ শাশিয়ালীতে প্রবাসীর কষ্টার্জিত সম্পদ চুরি ফরিদগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে বসতঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ৪ ফরিদগঞ্জে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে কিশোর নিহত, আহত ৪ ফরিদগঞ্জে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ২৫ বছরের দ্বৈত চাকরির অভিযোগ স্কুল ফেলে ভূমি অফিসে প্রাথমিকের শিক্ষকরা! প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন প্রাথমিক বৃত্তি পেলো রাফি আহমেদ একই আকাশে দুই তারার দীপ্তি, ট্যালেন্টপুলে জমজ দুই বোন

ফরিদগঞ্জে চিংড়ি ও ধানের শীষের সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৫

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:২৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪২৯ বার পড়া হয়েছে

ফরিদগঞ্জে চিংড়ি প্রতীকের সমর্থক ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এম. এ. হান্নানের পূর্বনির্ধারিত গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক ছিল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে। হোগলি গ্রামে উঠান বৈঠক চলাকালে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা পরপর দুইবার মিছিল নিয়ে মহড়া দেয়। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এম. এ. হান্নান বক্তব্য বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে তিনি সমর্থকদের নিয়ে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ষোলদানা গ্রামে আরেকটি উঠান বৈঠকে যান। সেখানেও প্রতিপক্ষের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তিনি কর্মসূচি স্থগিত করে খাজুরিয়া বাজারে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ বাঁধে।
সংঘর্ষ রাত আনুমানিক ৯টা পর্যন্ত চলে এবং পরে রূপসা বাজার এলাকাতেও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সামনে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এমরান হোসেন স্বপন মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে পূর্ব রূপসা উত্তর ইউনিয়নে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে তিনটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া বাজারের দক্ষিণ মাথায় অবস্থিত চিংড়ি প্রতীকের একটি কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চিংড়ি প্রতীকের সমর্থক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব ফারুক হোসেন ও জিসান পাটওয়ারী রয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে আহতরা হলেন—পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান হোসেন স্বপন, রাজু পাটওয়ারী, আবুল কাশেম, মারুফ খান, কবির, কাদের, ইউনুছ, মো. রাসেল, মো. এমরান, হোসেন স্বপন ও আব্দুল কাদিরসহ আরও কয়েকজন।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন,
“চিংড়ি প্রতীক ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে থানায় লিখিতভাবে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।”
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফরিদগঞ্জে চিংড়ি ও ধানের শীষের সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৫

আপডেট সময় : ০৬:২৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদগঞ্জে চিংড়ি প্রতীকের সমর্থক ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এম. এ. হান্নানের পূর্বনির্ধারিত গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক ছিল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে। হোগলি গ্রামে উঠান বৈঠক চলাকালে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা পরপর দুইবার মিছিল নিয়ে মহড়া দেয়। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এম. এ. হান্নান বক্তব্য বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে তিনি সমর্থকদের নিয়ে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ষোলদানা গ্রামে আরেকটি উঠান বৈঠকে যান। সেখানেও প্রতিপক্ষের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তিনি কর্মসূচি স্থগিত করে খাজুরিয়া বাজারে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ বাঁধে।
সংঘর্ষ রাত আনুমানিক ৯টা পর্যন্ত চলে এবং পরে রূপসা বাজার এলাকাতেও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সামনে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এমরান হোসেন স্বপন মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে পূর্ব রূপসা উত্তর ইউনিয়নে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে তিনটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া বাজারের দক্ষিণ মাথায় অবস্থিত চিংড়ি প্রতীকের একটি কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চিংড়ি প্রতীকের সমর্থক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব ফারুক হোসেন ও জিসান পাটওয়ারী রয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে আহতরা হলেন—পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান হোসেন স্বপন, রাজু পাটওয়ারী, আবুল কাশেম, মারুফ খান, কবির, কাদের, ইউনুছ, মো. রাসেল, মো. এমরান, হোসেন স্বপন ও আব্দুল কাদিরসহ আরও কয়েকজন।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন,
“চিংড়ি প্রতীক ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে থানায় লিখিতভাবে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।”
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজমান রয়েছে।