ফরিদগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে বিল্ডিং নির্মাণ কাজ
- আপডেট সময় : ০৪:০১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

প্রবাস ফেরত অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছেন মামলার বাদী হাছিনা বেগম। এই সুযোগে বিবাদী মো. আবুল বাশার পাটওয়ারী বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দলবল নিয়ে পাকা ভবণ নির্মাণের কাজে দিনরাত ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার হর্ণি দূর্গাপুর গ্রামের ঘটনাস্থলে গেলে এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ওই ঘটনার বিষয়ে জানান এবং অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধ জানান।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির বোরহান পাটওয়ারীর স্ত্রী হাছিনা বেগম এবং প্রতিপক্ষ মো. আবুল বাশার পাটওয়ারীসহ সংশ্লিষ্টরা ক্রয়সূত্রে ১২৭ নম্বর হর্নি মৌজার ৭৪১ নম্বর খতিয়ানের ৮৩৯২ নম্বর দাগে ৭ শতক সম্পত্তির মালিক হন। পরবর্তীতে হাছিনা বেগম প্রতিবেশীদের চলাচলের পথ রেখে নিজেদের মালিকানা সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন।
এদিকে আবুল বাশার পাটওয়ারীদের মালিকানা সম্পত্তিতে একটি কাঁচা ঘর ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ওই কাঁচা ঘরটি ভেঙে তারা চলাচলের পথ বন্ধ করে একটি বিল্ডিং নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ সময় হাছিনা বেগম ও তার স্বজনরা বাধা দিলে তারা তা মানতে নারাজ। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী হাছিনা বেগম চাঁদপুর বিজ্ঞ বিচারিক আদালতে মামলা নং ৭৭৪/২০২৬ দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নালিশী সম্পত্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা ভূমি কার্যালয়কে তদন্ত রিপোর্ট প্রেরণের নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী হাছিনা বেগম বলেন, আমি অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে তার চিকিৎসার জন্য ঢাকার হাসপাতালে রয়েছি। আমাদের বাড়িতে কেউ নেই। এই সুযোগে প্রতিপক্ষরা বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আমাদের নালিশী সম্পত্তিতে বিল্ডিং নির্মাণের কাজ করছে। এলাকায় আমরা অসহায়। বিজ্ঞ আদালতের কাছে এ অপরাধের বিচার চাই।
ঘটনাস্থলে মামলার বিবাদী মো. আবুল বাশার পাটওয়ারীকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে তার ছেলে মো. ইব্রাহিম বলেন, আমাদের সম্পত্তিতে আমরা বিল্ডিং নির্মাণ করছি। আমাদের প্রতিপক্ষ অকারণে আমাদের হয়রানি করে। আমাদের সম্পত্তিতে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।¬
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন বলেন, আদালতের নির্দেশ মান্য করা সকলের দায়িত্ব। কিন্তু কিভাবে নিষেধাজ্ঞাকৃত স্থানে পাকা ভবনের কাজ চলে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত মো. বাবুল বলেন, হাছিনা বেগম আদালতে মামলা করেছেন, বাশার পাটওয়ারী আদালতে যাওয়া-আসা করছেন। নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আমাদের জানা নেই।
ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক সরেজমিনে নিখুঁত তদন্ত শেষে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আল আমিন বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ মেনে চলার জন্য উভয় পক্ষকে বলা হয়েছে। যার দ্বারা বিজ্ঞ আদালতের অবমাননা হবে, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















