নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ, টানা বৃষ্টিতে ধসে পড়ল পাকা সড়কের একাংশ
- আপডেট সময় : ০৪:২৬:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নে নির্মাণাধীন একটি পাকা সড়কের একাংশ টানা বৃষ্টিতে ধসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্বল গাইডওয়াল নির্মাণ এবং পাশের মাটি কেটে সড়ক ভরাট করায় এ ঘটনা ঘটেছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
ঘটনাটি উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরদুঃখিয়া গ্রামের গাজীবাড়ির সামনের পুকুরপাড় এলাকায়। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সড়কের একটি বড় অংশ পুকুরের দিকে দেবে যায়। এতে সড়কটি দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় এলে গত রোববার (১২ জুলাই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে রামপুর–সোলাখালী সড়ক থেকে সন্তোষপুর বাউন্ডারি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সোহেল বিল্ডার্স করপোরেশন।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীবাড়ির সামনের পুকুরপাড়সংলগ্ন স্থানে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি আরও পুকুরের দিকে হেলে পড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে চলতি বর্ষায় সড়কের আরও বড় অংশ পুকুরে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন, শাহাদাত হোসেনসহ কয়েকজন বলেন, গাইডওয়াল নির্মাণের সময় থেকেই এতে ত্রুটি ছিল। পুকুরটি গভীর হওয়ায় তাঁরা গাইডওয়াল আরও মজবুত করার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা আমলে নেয়নি।
তাঁদের অভিযোগ, পরে সড়ক নির্মাণের সময় গাইডওয়ালের ভেতরের অংশ ভরাট করতে পাশ থেকেই ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হয়। এতে গাইডওয়ালের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। টানা বৃষ্টিতে সেই অংশ ধসে গিয়ে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মাত্র কয়েক মাস আগে নির্মিত সড়কের এমন অবস্থা নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁরা ঘটনার তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সোহেল বিল্ডার্স করপোরেশনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কাজটি গত অর্থবছরে শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। সড়কটি সন্তোষজনকভাবে সংস্কার না করা পর্যন্ত জামানত ফেরত দেওয়া হবে না।”
ছবির ক্যাপশন: ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের গাজীবাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টিতে পুকুরের দিকে ধসে পড়া পাকা সড়কের একাংশ।










