সংবাদ শিরোনাম ::
গাব্দেরগাঁও গ্রামে আদালতের রায়ের পরও মিলছে না জমির দখল
নিজস্ব প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

দলিল সম্পাদন শেষে বিক্রয়কৃত সম্পত্তি মেপে বুঝিয়ে দেওয়ার পর সে সম্পত্তির ভোগদখলেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন বিক্রেতা। ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত পেরিয়ে ঘটনা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। আদালতের রায় ক্রেতার অনুকূলে এলেও পেশীশক্তির কাছে ধরাশয়ী তিনি। ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও গ্রামের।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গাব্দেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সবুজ হোসেন একজন প্রবাসী। ২০২৩ সালের ১৯ জুন তারিখে তিনি প্রতিবেশী আব্দুল মান্নানের নিকট থেকে গাব্দেরগাঁও মৌজার ৪০৮ দাগে ৮ শতক সম্পত্তি ক্রয় করেন। ক্রয়কৃত সম্পত্তি তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। জমিটি সরকারী রাস্তার সাথে হওয়ায় এবং সময়ের সাথে সেই জমিটির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ফিরিয়ে নিতে মান্নান ও তার ওয়ারিশরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় চেয়ারম্যানের দারস্থ হন সবুজ। চেয়ারম্যান বিষয়টি সুরাহ করতে ব্যর্থ হলে সবুজ আদালতের শরণাপন্ন হন। ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর তিনি ফরিদগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৩৮০/২০২৩ ইং। মামলায় আদালত তার পক্ষে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করেন। এদিকে আব্দুল মান্নানের স্ত্রী এবং ৫ সন্তান বাদী হয়ে ২ মে ২০২৪ তারিখে একই আদালতে একটি অগ্রক্রয়/হকসূফা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১৩৫/২০২৪ ইং। ২৭ জানুয়ারী ২০২৫ তারিখে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। আদালত কর্তৃক প্রত্যাখাত হয়ে আব্দুল মান্নান এবং তার ওয়ারিশরা সবুজের বিরুদ্ধে হুমকি-ধমকি এবং পেশীশক্তির পথ বেছে নেন। এতে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা এবং ক্রয়কৃত সম্পত্তির দখল নিয়ে উৎকন্ঠায় দিন কাটছে রেমিট্যান্স যোদ্ধা সবুজ হোসেনের।

সবুজের মা খতেজা বেগম বলেন, সঞ্চয়ের সবটুকু দিয়ে আমার ছেলে এই সম্পত্তিটুকু কিনেছে। মান্নান জায়গা বিক্রি করে আবার সে এবং তার ছেলেরাই হয়রানি করছে। হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। মারধর করতে আসে। এ সময় তিনি সম্পত্তি বুঝিয়ে দিয়ে সবুজের প্রতি ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মান্নান বিক্রয়কৃত সম্পত্তি হিসেবে গাব্দেরগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুকুরের একটি অংশ দেখিয়ে দেন। এ সময় আব্দুল মান্নানের মিথ্যাচারকে চ্যালেঞ্জ করে দলিলপত্র প্রদর্শন করলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মৃধা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সবুজের দলিলটি সঠিক। সবুজের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সুরাহার জন্য একাধিকবার বসা হয়। বিচার প্রতিকূলে গেলেই আব্দুল মান্নান বিচার মানেননা।
প্রতিবেশীরা সবুজের এ ভোগান্তীর অবসান চেয়েছেন। একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহল এবং বিচার বিভাগকে বিষয়টি সুরাহা করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন তারা।




















