ফরিদগঞ্জ ১০:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৩৫ বছরের সংসার, তবু স্বামীর কাছে ‘অচেনা’ আফিয়া পাঁচ দশকের চেনা পথেই থামল তাহের মাস্টারের জীবন মন্ত্রী আসার গুঞ্জনেই পাল্টে গেল ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র গ্যারেজে যাওয়ার পথে নিখোঁজ, রাতে ডোবার কাদায় মিলল ইব্রাহিমের নিথর দেহ ফরিদগঞ্জ কে. আর. আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফুটবল উৎসব দুর্যোগ মোকাবিলায় ৫২ স্কাউদেটের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ফরিদগঞ্জে টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের আত্মপ্রকাশ এক সপ্তাহে ২০ চুরি, আতঙ্কে ফরিদগঞ্জবাসী ফরিদগঞ্জে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এর মধ্যস্থতায় পাউবির খাছ বিক্রি! থানায় অভিযোগ

৩৫ বছরের সংসার, তবু স্বামীর কাছে ‘অচেনা’ আফিয়া

শামীম হাসান
  • আপডেট সময় : ০৪:২০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
৩৫ বছরের দাম্পত্য জীবন। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার। দীর্ঘ এই পথচলার পর স্বামীর কাছ থেকেই ভরণ-পোষণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিন সন্তানের জননী আফিয়া বেগম। স্বামীর কাছ থেকে ন্যায্য অধিকার ও প্রতিকার পেতে ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। তবে সেখানে লিখিত অভিযোগ দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়া ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন আফিয়া। পরে তাঁর পক্ষে কথা বলায় স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) হামলায় গুরুতর আহত হয়ে আফিয়া বেগমের ভগ্নিপতি মো. জাহিদুল ইসলাম শাওন ও তাঁর ছোট বোন জান্নাতুল সাহারা ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় জাহিদুল ইসলাম শাওন বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
৯ নম্বর গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদে দেওয়া আফিয়া বেগমের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৫ বছর আগে নুরু ছৈয়ালের তৃতীয় ছেলের সঙ্গে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। আফিয়া বেগমের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে তাঁর স্বামী বাবার বাড়ি থেকে টাকা নিতেন। প্রায় দুই বছর আগে বিদেশে যাওয়ার কথা বলে তাঁর নামে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নেন স্বামী। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে আরও এক লাখ টাকা ধার নিয়ে বিদেশে চলে যান। যাওয়ার সময় আফিয়াকে বাবার বাড়িতে রেখে যান তিনি।
এরপর থেকে স্বামী তাঁর কোনো খোঁজখবর নেননি এবং ভরণ-পোষণের জন্যও কোনো অর্থ দেননি বলে অভিযোগ আফিয়ার। এতে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান তিনি। স্বামী তাঁকে নিজে কাজ করে খাওয়ার কথা বলেছেন বলেও অভিযোগ করেন আফিয়া।
ভরণ-পোষণ ও পারিবারিক সমস্যার প্রতিকার চেয়ে ৯ নম্বর গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দিতে যান আফিয়া বেগম। তাঁর অভিযোগ, পরিষদে যাওয়ার পর তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টাও করা হয়। এ সময় পরিষদে উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে দাবি করেন তিনি।
আফিয়া বেগম বলেন, “আমি কারও সঙ্গে বিরোধে জড়াতে চাই না। দীর্ঘদিন ধরে ভরণ-পোষণ না পেয়ে অসহায় অবস্থায় আছি। তাই ন্যায়সংগত সমাধানের আশায় ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারস্থ হয়েছি। আমার সঙ্গে আমার ভগ্নিপতি শাওন গিয়েছিলেন। তিনি আমার পক্ষে কথা বলেছেন, এ কারণেই আমার ভগ্নিপতির ওপর হামলা করা হয়েছে।”
আফিয়ার অভিযোগের বিষয়ে সহযোগিতা করার কারণেই তাঁর ভগ্নিপতি জাহিদুল ইসলাম শাওন ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে দাবি শাওনের। এ ঘটনায় তিনি ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আফিয়া বেগমের মেয়ের জামাই বাদল হাসান। তিনি বলেন, শাওন ও তাঁর খালাতো ভাই মোহাম্মদ আলী আমার শাশুড়ির বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি করছিলেন। আমি তাঁদের থামাতে যাই। একপর্যায়ে শুনি, শাওন আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে গেছে।
আফিয়া বেগমের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৯নং গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি জানান, আফিয়া বেগম নামের এক নারী এ ধরনের একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলমগীর বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি যেহেতু আত্মীয়স্বজনদের মধ্যেই, তাই উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসব। কোনো পক্ষ না মানলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
দীর্ঘ ৩৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীর কাছ থেকে ভরণ-পোষণ না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে এখন ন্যায়সংগত সমাধানের অপেক্ষায় আফিয়া বেগম। তাঁর দাবি, তাঁর লিখিত অভিযোগ ও হামলার ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধটির শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সংগত সমাধান চান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

৩৫ বছরের সংসার, তবু স্বামীর কাছে ‘অচেনা’ আফিয়া

আপডেট সময় : ০৪:২০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
৩৫ বছরের দাম্পত্য জীবন। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার। দীর্ঘ এই পথচলার পর স্বামীর কাছ থেকেই ভরণ-পোষণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিন সন্তানের জননী আফিয়া বেগম। স্বামীর কাছ থেকে ন্যায্য অধিকার ও প্রতিকার পেতে ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। তবে সেখানে লিখিত অভিযোগ দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়া ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন আফিয়া। পরে তাঁর পক্ষে কথা বলায় স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) হামলায় গুরুতর আহত হয়ে আফিয়া বেগমের ভগ্নিপতি মো. জাহিদুল ইসলাম শাওন ও তাঁর ছোট বোন জান্নাতুল সাহারা ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় জাহিদুল ইসলাম শাওন বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
৯ নম্বর গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদে দেওয়া আফিয়া বেগমের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৫ বছর আগে নুরু ছৈয়ালের তৃতীয় ছেলের সঙ্গে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। আফিয়া বেগমের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে তাঁর স্বামী বাবার বাড়ি থেকে টাকা নিতেন। প্রায় দুই বছর আগে বিদেশে যাওয়ার কথা বলে তাঁর নামে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নেন স্বামী। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে আরও এক লাখ টাকা ধার নিয়ে বিদেশে চলে যান। যাওয়ার সময় আফিয়াকে বাবার বাড়িতে রেখে যান তিনি।
এরপর থেকে স্বামী তাঁর কোনো খোঁজখবর নেননি এবং ভরণ-পোষণের জন্যও কোনো অর্থ দেননি বলে অভিযোগ আফিয়ার। এতে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান তিনি। স্বামী তাঁকে নিজে কাজ করে খাওয়ার কথা বলেছেন বলেও অভিযোগ করেন আফিয়া।
ভরণ-পোষণ ও পারিবারিক সমস্যার প্রতিকার চেয়ে ৯ নম্বর গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দিতে যান আফিয়া বেগম। তাঁর অভিযোগ, পরিষদে যাওয়ার পর তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টাও করা হয়। এ সময় পরিষদে উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে দাবি করেন তিনি।
আফিয়া বেগম বলেন, “আমি কারও সঙ্গে বিরোধে জড়াতে চাই না। দীর্ঘদিন ধরে ভরণ-পোষণ না পেয়ে অসহায় অবস্থায় আছি। তাই ন্যায়সংগত সমাধানের আশায় ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারস্থ হয়েছি। আমার সঙ্গে আমার ভগ্নিপতি শাওন গিয়েছিলেন। তিনি আমার পক্ষে কথা বলেছেন, এ কারণেই আমার ভগ্নিপতির ওপর হামলা করা হয়েছে।”
আফিয়ার অভিযোগের বিষয়ে সহযোগিতা করার কারণেই তাঁর ভগ্নিপতি জাহিদুল ইসলাম শাওন ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে দাবি শাওনের। এ ঘটনায় তিনি ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আফিয়া বেগমের মেয়ের জামাই বাদল হাসান। তিনি বলেন, শাওন ও তাঁর খালাতো ভাই মোহাম্মদ আলী আমার শাশুড়ির বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি করছিলেন। আমি তাঁদের থামাতে যাই। একপর্যায়ে শুনি, শাওন আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে গেছে।
আফিয়া বেগমের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৯নং গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি জানান, আফিয়া বেগম নামের এক নারী এ ধরনের একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলমগীর বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি যেহেতু আত্মীয়স্বজনদের মধ্যেই, তাই উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসব। কোনো পক্ষ না মানলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
দীর্ঘ ৩৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীর কাছ থেকে ভরণ-পোষণ না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে এখন ন্যায়সংগত সমাধানের অপেক্ষায় আফিয়া বেগম। তাঁর দাবি, তাঁর লিখিত অভিযোগ ও হামলার ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধটির শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সংগত সমাধান চান তিনি।