ফরিদগঞ্জ ০৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদগঞ্জে ১৬১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৫ কারবারি বদরপুর আলিম মাদ্রাসার সভাপতি হলেন সাংবাদিক ফখরুল আলম ফরিদগঞ্জে প্রেসক্লাব-বিএনপি সমঝোতা বৈঠক, সংবাদ বর্জনের ঘোষণা স্থগিত ‎ফরিদগঞ্জে IUGIP সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ ফরিদগঞ্জে বিএনপির সংবাদ বর্জনের ঘোষণা এক দেহে দুই প্রাণ, দারিদ্র্যে থমকে আছে দুই শিশুর চিকিৎসা ও নতুন জীবনের স্বপ্ন ‘মিথ্যা’ অভিযোগে প্রবাসী ও তার পরিবারকে লাগাতার হয়রানি যে মাটিতে জন্ম, সেই মাটিতেই শেষ শয্যা ফরিদগঞ্জে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে বিদ্যালয়ের ‎প্রধান শিক্ষকসহ ২জন বরখাস্ত সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের দক্ষিণ চৌরাঙ্গা বেপারি বাড়িতে নারিকেল গাছের ডাল কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এর মধ্যস্থতায় পাউবির খাছ বিক্রি! থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৭০ বার পড়া হয়েছে

 

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ১৯-বি আনন্দ বাজার খালের পাড়ে রেইন্ট্রি, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ প্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতা হুমায়ুন কবির কাজীসহ একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এবিষয়ে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক লিখিত অভিযোগ করেন ফরিদগঞ্জ থানায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের খাল পাড়ের গাছ গুলো ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির কাজীর মধ্যস্থতায় এবং তাঁর উপস্থিতিতে বিক্রি করা হয়। তাঁর সাথে সহযোগি হিসেবে চিলেন জব্বার মাস্টার। তারা আরও জানান, আমরা জানি খাল পাড়ের গাছ সরকারি, কিন্তু হুমায়ুন কাজী ও জব্বার মাস্টার নিজেদের দাবী করে গাছ বিক্রি করে দেয়। যা সম্পূর্ণ অন্যায়।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নিজাম উদ্দিন মজুমদার বলেন, “সরকারি খালের পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন গাছ বিক্রির ঘটনায় আমি নিজে বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কাজী বলেন, “যেখান থেকে গাছ বিক্রি করা হয়েছে, সেটি আমাদের দুই পরিবারের ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি। গাছগুলো আমার শ্বশুরের হাতে লাগানো। তাই এগুলো আমরা বিক্রি করেছি।”

গাছের ক্রেতা স্থানীয় হারুনুর রশিদ বলেন, “আমি সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কাজীদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে গাছ কিনেছি। তাই গাছ কেটে নিয়েছি।” তবে গাছগুলো সরকারি সম্পত্তি কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সরকারি সম্পত্তির গাছ বিক্রির অভিযোগের সত্যতা এবং জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের সঠিক তদন্তের দাবী স্থানীয়দের। এ বিষয়ে বিএনপির নেতা হুমায়ুন কবির কাজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ সম্পত্তি আমাদের দুই বাড়ির ব্যক্তি মালিকানাধীন। বিশেষ করে গাছগুলো আমার শ্বশুরের হাতে লাগানো। এগুলো আমাদের নিজস্ব গাছ, তাই আমরা বিক্রি করেছি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এর মধ্যস্থতায় পাউবির খাছ বিক্রি! থানায় অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

 

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ১৯-বি আনন্দ বাজার খালের পাড়ে রেইন্ট্রি, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ প্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতা হুমায়ুন কবির কাজীসহ একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এবিষয়ে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক লিখিত অভিযোগ করেন ফরিদগঞ্জ থানায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের খাল পাড়ের গাছ গুলো ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির কাজীর মধ্যস্থতায় এবং তাঁর উপস্থিতিতে বিক্রি করা হয়। তাঁর সাথে সহযোগি হিসেবে চিলেন জব্বার মাস্টার। তারা আরও জানান, আমরা জানি খাল পাড়ের গাছ সরকারি, কিন্তু হুমায়ুন কাজী ও জব্বার মাস্টার নিজেদের দাবী করে গাছ বিক্রি করে দেয়। যা সম্পূর্ণ অন্যায়।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নিজাম উদ্দিন মজুমদার বলেন, “সরকারি খালের পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন গাছ বিক্রির ঘটনায় আমি নিজে বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কাজী বলেন, “যেখান থেকে গাছ বিক্রি করা হয়েছে, সেটি আমাদের দুই পরিবারের ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি। গাছগুলো আমার শ্বশুরের হাতে লাগানো। তাই এগুলো আমরা বিক্রি করেছি।”

গাছের ক্রেতা স্থানীয় হারুনুর রশিদ বলেন, “আমি সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কাজীদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে গাছ কিনেছি। তাই গাছ কেটে নিয়েছি।” তবে গাছগুলো সরকারি সম্পত্তি কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সরকারি সম্পত্তির গাছ বিক্রির অভিযোগের সত্যতা এবং জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের সঠিক তদন্তের দাবী স্থানীয়দের। এ বিষয়ে বিএনপির নেতা হুমায়ুন কবির কাজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ সম্পত্তি আমাদের দুই বাড়ির ব্যক্তি মালিকানাধীন। বিশেষ করে গাছগুলো আমার শ্বশুরের হাতে লাগানো। এগুলো আমাদের নিজস্ব গাছ, তাই আমরা বিক্রি করেছি।”