এক সপ্তাহে ২০ চুরি, আতঙ্কে ফরিদগঞ্জবাসী
- আপডেট সময় : ০৫:৪১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

ফরিদগঞ্জ উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরির ঘটনা। গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫ থেকে ২০টি চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ ও মামলা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চোরচক্র এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। একের পর এক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পৌর এলাকার কাছিয়াড়া গ্রামের নেছার পাটওয়ারীর ছেলে মো. সোহাগ পাটওয়ারীর বাড়ির সামনে থেকে তাঁর মোটরসাইকেল চুরি হয়। এর আগের দিন বুধবার (২২ জুলাই) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে পশ্চিম রূপসা গ্রামের সৌরভ আলীর ছেলে মো. স্বপনের অটোরিকশা চুরি হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে কালীর বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী মো. ফরহাদ হোসেনের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। আর সোমবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ শাশিয়ালী গ্রামে প্রবাসফেরত আব্দুল সাত্তারের বাড়িতে সংঘটিত হয় দুর্ধর্ষ চুরি। চোরেরা টিনের চাল কেটে ঘরে ঢুকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব ঘটনার বাইরে গুপ্তি পশ্চিম ইউনিয়ন, গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন, পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও ১০ থেকে ১৫টি চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

প্রবাসফেরত আব্দুল সাত্তার বলেন, “প্রবাস থেকে দেশে আসার তিন দিন পর মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাই। পরদিন সকালে ফিরে দেখি টিনের চাল কেটে চোর ঘরে ঢুকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ এসেছে, কিন্তু এখনো কাউকে ধরতে পারেনি।”
মোটরসাইকেলের মালিক সোহাগ পাটওয়ারী বলেন, “আড়াই লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেলটি বাড়ির সামনে থেকে চুরি হয়েছে। কয়েক মাস আগে আমার বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটেছিল। এবারও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”
ওষুধ ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন বলেন, “রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাই। সকালে এসে দেখি টিনের চাল কেটে চোর দোকানে ঢুকে প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়ে গেছে।”
দক্ষিণ শাশিয়ালী গ্রামের বাসিন্দা রিপন মজুমদার, নান্নু দেওয়ান, মিলনসহ কয়েকজন জানান, তাঁদের গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরির ঘটনা ঘটছে। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল থেকে শুরু করে ঘরের আসবাবপত্র পর্যন্ত চুরি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গুপ্তি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান পাটওয়ারী বলেন, “গত সপ্তাহে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে আমার আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। এখনো মোবাইল উদ্ধার হয়নি।”
গুপ্তি পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, “আমার ইউনিয়নে গত এক সপ্তাহে অন্তত পাঁচ থেকে সাতটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি পুলিশ ও প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহআলম শেখ বলেন, “গত কয়েক দিনে আমার এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও উত্থাপন করেছি।”
চুরির ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আল আমিন বলেন, “চুরির ঘটনায় একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে। কেন চুরির ঘটনা বাড়ছে, সেটিও আমরা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি।”




















