ফাঁকা ঘরই ছিল টার্গেট।। দক্ষিণ শাশিয়ালীতে প্রবাসীর কষ্টার্জিত সম্পদ চুরি
- আপডেট সময় : ০২:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

বাড়ির সবাই গিয়েছিলেন মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে। ফিরে এসে দেখলেন, দরজা খোলা। ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে সিঁড়ির ওপরের টিন খুলে রাখা। আলমারির তালা ভাঙা, ভেতরে নেই বহু বছরের সঞ্চয়ে গড়া স্বর্ণালংকার, নেই বিদেশ থেকে আনা ওমানি রিয়ালও। এক রাতেই যেন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে প্রবাসী আব্দুল সাত্তারের সংসারের নিরাপত্তাবোধ।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শাশিয়ালী গ্রামের বরকন্দাজ বাড়িতে সোমবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাতে এ চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. আব্দুল সাত্তার।

অভিযোগে তিনি জানান, সোমবার দুপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ মেয়ে নিলিমা আক্তার মিমের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। পরদিন সকালে তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী খালেদা বেগম মোবাইল ফোনে জানান, তাঁদের বসতঘরের দরজা খোলা রয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান, ঘরের সিঁড়ির ওপরের টিন খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়েছে। আলমারির তালাও ভাঙা। তাঁর দাবি, আলমারিতে থাকা পরিবারের সদস্যদের ব্যবহৃত প্রায় ৮ ভরি ৫ আনা স্বর্ণালংকার এবং ৫০০ ওমানি রিয়াল চুরি হয়ে গেছে।
আব্দুল সাত্তার বলেন, “আমরা যে বাড়িতে ছিলাম না, বিষয়টি আশপাশের মানুষ ছাড়া অন্য কারও জানার কথা নয়। তাই পরিচিত কারও সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে আমার সন্দেহ। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”

ঘটনার পর এলাকায় চুরির পুনরাবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রিপন মজুমদার, নান্নু দেওয়ান ও মিলনের ভাষ্য, এলাকায় প্রায়ই বসতঘর, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটে। তাঁদের মতে, এসব ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে চোরেরা ঘরে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার ও কিছু অর্থ নিয়ে গেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দক্ষিণ শাশিয়ালী গ্রামের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, এ ঘটনার দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে এলাকায় ধারাবাহিক চুরির ঘটনাগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।















