ফরিদগঞ্জ ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদগঞ্জে ১৬১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৫ কারবারি বদরপুর আলিম মাদ্রাসার সভাপতি হলেন সাংবাদিক ফখরুল আলম ফরিদগঞ্জে প্রেসক্লাব-বিএনপি সমঝোতা বৈঠক, সংবাদ বর্জনের ঘোষণা স্থগিত ‎ফরিদগঞ্জে IUGIP সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ ফরিদগঞ্জে বিএনপির সংবাদ বর্জনের ঘোষণা এক দেহে দুই প্রাণ, দারিদ্র্যে থমকে আছে দুই শিশুর চিকিৎসা ও নতুন জীবনের স্বপ্ন ‘মিথ্যা’ অভিযোগে প্রবাসী ও তার পরিবারকে লাগাতার হয়রানি যে মাটিতে জন্ম, সেই মাটিতেই শেষ শয্যা ফরিদগঞ্জে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে বিদ্যালয়ের ‎প্রধান শিক্ষকসহ ২জন বরখাস্ত সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের দক্ষিণ চৌরাঙ্গা বেপারি বাড়িতে নারিকেল গাছের ডাল কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

ফরিদগঞ্জে বৃদ্ধা কোহিনুর বেগমের মৃত্যু নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের “মিথ্যাচার” ফাঁস

শামীম হাসান
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫ ১৭৬৩ বার পড়া হয়েছে

 

ফরিদগঞ্জ ডায়াবেটিক সেন্টার ও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোহিনুর বেগম (৬৫) নামের এক নারীর মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। মৃত্যুর পর স্বজনদের অভিযোগ ছিল চিকিৎসকের অবহেলা। কিন্তু এরপর হাসপাতাল কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

হাসপাতালের অন্যতম মালিক ডা. সাদেকুর রহমান গণমাধ্যমে দাবি করেন—কহিনুর বেগমকে প্রথমে অন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে ঢাকায় রেফার করার পরও স্বজনরা তাঁকে আবার ডায়াবেটিক হাসপাতালে এনে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেন। তিনি এমনকি মৃত্যুর পেছনে “ভিন্ন উদ্দেশ্য” থাকার ইঙ্গিতও দেন।

কিন্তু কহিনুর বেগমের ছেলে স্বপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— “এটা মিথ্যাচার ছাড়া কিছু নয়। ডায়াবেটিক ছাড়া আমরা আর কোথাও মাকে নেইনি। অন্য হাসপাতালে নিলে সেখানে অবশ্যই রেকর্ড থাকত।”

ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত থেকে। সেদিন স্বপন ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত চিকিৎসক ডা. হুমায়ুনকে মায়ের অসুস্থতার কথা জানালে তিনি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী কোহিনুর বেগমকে সরাসরি ডায়াবেটিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় তার।

ডা. হুমায়ুন বলেন, “রোগী অন্য কোনো হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কিনা—সে বিষয়ে আমার কোনো তথ্য নেই।” কিন্তু হাসপাতাল মালিক ডা. সাদেকুর রহমান দাবি করেন রোগী অন্য হাসপাতালে ছিলেন।

ডা. সাদেকুর রহমানের এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে সাংবাদিকরা ফরিদগঞ্জের আরেক বেসরকারি হাসপাতাল ‘লাইফ জেনারেল’-এ যোগাযোগ করলে চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসে। হাসপাতালটির মার্কেটিং ও অ্যাডমিন বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক সোহেল মাহমুদ জানান, “আমাদের সফটওয়্যারভিত্তিক সিস্টেমে প্রতিটি ভর্তি রোগীর রেকর্ড থাকে। যাচাই করে দেখেছি, কহিনুর বেগম নামে গত কয়েকদিনে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি।”

এই তথ্য প্রকাশের পর স্পষ্ট হয়ে যায়—হাসপাতাল মালিকের বক্তব্য ছিল অসত্য। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়। কেবল একটি মৃত্যু নয়—এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে ফরিদগঞ্জের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা ও মিথ্যাচারের ভয়াবহ চিত্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফরিদগঞ্জে বৃদ্ধা কোহিনুর বেগমের মৃত্যু নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের “মিথ্যাচার” ফাঁস

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

 

ফরিদগঞ্জ ডায়াবেটিক সেন্টার ও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোহিনুর বেগম (৬৫) নামের এক নারীর মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। মৃত্যুর পর স্বজনদের অভিযোগ ছিল চিকিৎসকের অবহেলা। কিন্তু এরপর হাসপাতাল কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

হাসপাতালের অন্যতম মালিক ডা. সাদেকুর রহমান গণমাধ্যমে দাবি করেন—কহিনুর বেগমকে প্রথমে অন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে ঢাকায় রেফার করার পরও স্বজনরা তাঁকে আবার ডায়াবেটিক হাসপাতালে এনে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেন। তিনি এমনকি মৃত্যুর পেছনে “ভিন্ন উদ্দেশ্য” থাকার ইঙ্গিতও দেন।

কিন্তু কহিনুর বেগমের ছেলে স্বপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— “এটা মিথ্যাচার ছাড়া কিছু নয়। ডায়াবেটিক ছাড়া আমরা আর কোথাও মাকে নেইনি। অন্য হাসপাতালে নিলে সেখানে অবশ্যই রেকর্ড থাকত।”

ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত থেকে। সেদিন স্বপন ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত চিকিৎসক ডা. হুমায়ুনকে মায়ের অসুস্থতার কথা জানালে তিনি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী কোহিনুর বেগমকে সরাসরি ডায়াবেটিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় তার।

ডা. হুমায়ুন বলেন, “রোগী অন্য কোনো হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কিনা—সে বিষয়ে আমার কোনো তথ্য নেই।” কিন্তু হাসপাতাল মালিক ডা. সাদেকুর রহমান দাবি করেন রোগী অন্য হাসপাতালে ছিলেন।

ডা. সাদেকুর রহমানের এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে সাংবাদিকরা ফরিদগঞ্জের আরেক বেসরকারি হাসপাতাল ‘লাইফ জেনারেল’-এ যোগাযোগ করলে চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসে। হাসপাতালটির মার্কেটিং ও অ্যাডমিন বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক সোহেল মাহমুদ জানান, “আমাদের সফটওয়্যারভিত্তিক সিস্টেমে প্রতিটি ভর্তি রোগীর রেকর্ড থাকে। যাচাই করে দেখেছি, কহিনুর বেগম নামে গত কয়েকদিনে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি।”

এই তথ্য প্রকাশের পর স্পষ্ট হয়ে যায়—হাসপাতাল মালিকের বক্তব্য ছিল অসত্য। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়। কেবল একটি মৃত্যু নয়—এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে ফরিদগঞ্জের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা ও মিথ্যাচারের ভয়াবহ চিত্র।