ফরিদগঞ্জ ০৩:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদগঞ্জে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ দুই মাদক কারবারিকে গাছের সাথে বেধে গণধোলাই দিয়ে পুলিশ দিলো জনতা নিজের ঘর নেই, সড়কের পাশে বর্জ্য।। এ কেমন প্রথম শ্রেণির পৌরসভা! পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ মতবিনিময় সভা ও এটিএম বুথ উদ্বোধন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনওর উদ্যোগে আবু তাহের পেলেন অটোরিকশা ভুয়া সাংবাদিক ও মা’দ’ক কারবারি কামরুল হাসান রনিকে গ্রে’প্তা’রে’র দাবিতে মানববন্ধন ফরিদগঞ্জে পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের ৪৪৭তম শাখার উদ্বোধন পা হারিয়েও হার মানেননি আবু তাহের-জেসমিন ফরিদগঞ্জে কসমিক এয়ারের ফ্রি সেমিনার ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জের গৃহবধূ মিশু হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

ফরিদগঞ্জে বৃদ্ধা কোহিনুর বেগমের মৃত্যু নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের “মিথ্যাচার” ফাঁস

শামীম হাসান
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫ ১৭৩২ বার পড়া হয়েছে

 

ফরিদগঞ্জ ডায়াবেটিক সেন্টার ও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোহিনুর বেগম (৬৫) নামের এক নারীর মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। মৃত্যুর পর স্বজনদের অভিযোগ ছিল চিকিৎসকের অবহেলা। কিন্তু এরপর হাসপাতাল কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

হাসপাতালের অন্যতম মালিক ডা. সাদেকুর রহমান গণমাধ্যমে দাবি করেন—কহিনুর বেগমকে প্রথমে অন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে ঢাকায় রেফার করার পরও স্বজনরা তাঁকে আবার ডায়াবেটিক হাসপাতালে এনে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেন। তিনি এমনকি মৃত্যুর পেছনে “ভিন্ন উদ্দেশ্য” থাকার ইঙ্গিতও দেন।

কিন্তু কহিনুর বেগমের ছেলে স্বপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— “এটা মিথ্যাচার ছাড়া কিছু নয়। ডায়াবেটিক ছাড়া আমরা আর কোথাও মাকে নেইনি। অন্য হাসপাতালে নিলে সেখানে অবশ্যই রেকর্ড থাকত।”

ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত থেকে। সেদিন স্বপন ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত চিকিৎসক ডা. হুমায়ুনকে মায়ের অসুস্থতার কথা জানালে তিনি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী কোহিনুর বেগমকে সরাসরি ডায়াবেটিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় তার।

ডা. হুমায়ুন বলেন, “রোগী অন্য কোনো হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কিনা—সে বিষয়ে আমার কোনো তথ্য নেই।” কিন্তু হাসপাতাল মালিক ডা. সাদেকুর রহমান দাবি করেন রোগী অন্য হাসপাতালে ছিলেন।

ডা. সাদেকুর রহমানের এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে সাংবাদিকরা ফরিদগঞ্জের আরেক বেসরকারি হাসপাতাল ‘লাইফ জেনারেল’-এ যোগাযোগ করলে চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসে। হাসপাতালটির মার্কেটিং ও অ্যাডমিন বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক সোহেল মাহমুদ জানান, “আমাদের সফটওয়্যারভিত্তিক সিস্টেমে প্রতিটি ভর্তি রোগীর রেকর্ড থাকে। যাচাই করে দেখেছি, কহিনুর বেগম নামে গত কয়েকদিনে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি।”

এই তথ্য প্রকাশের পর স্পষ্ট হয়ে যায়—হাসপাতাল মালিকের বক্তব্য ছিল অসত্য। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়। কেবল একটি মৃত্যু নয়—এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে ফরিদগঞ্জের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা ও মিথ্যাচারের ভয়াবহ চিত্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফরিদগঞ্জে বৃদ্ধা কোহিনুর বেগমের মৃত্যু নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের “মিথ্যাচার” ফাঁস

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

 

ফরিদগঞ্জ ডায়াবেটিক সেন্টার ও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোহিনুর বেগম (৬৫) নামের এক নারীর মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। মৃত্যুর পর স্বজনদের অভিযোগ ছিল চিকিৎসকের অবহেলা। কিন্তু এরপর হাসপাতাল কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

হাসপাতালের অন্যতম মালিক ডা. সাদেকুর রহমান গণমাধ্যমে দাবি করেন—কহিনুর বেগমকে প্রথমে অন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে ঢাকায় রেফার করার পরও স্বজনরা তাঁকে আবার ডায়াবেটিক হাসপাতালে এনে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেন। তিনি এমনকি মৃত্যুর পেছনে “ভিন্ন উদ্দেশ্য” থাকার ইঙ্গিতও দেন।

কিন্তু কহিনুর বেগমের ছেলে স্বপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— “এটা মিথ্যাচার ছাড়া কিছু নয়। ডায়াবেটিক ছাড়া আমরা আর কোথাও মাকে নেইনি। অন্য হাসপাতালে নিলে সেখানে অবশ্যই রেকর্ড থাকত।”

ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত থেকে। সেদিন স্বপন ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত চিকিৎসক ডা. হুমায়ুনকে মায়ের অসুস্থতার কথা জানালে তিনি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী কোহিনুর বেগমকে সরাসরি ডায়াবেটিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় তার।

ডা. হুমায়ুন বলেন, “রোগী অন্য কোনো হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কিনা—সে বিষয়ে আমার কোনো তথ্য নেই।” কিন্তু হাসপাতাল মালিক ডা. সাদেকুর রহমান দাবি করেন রোগী অন্য হাসপাতালে ছিলেন।

ডা. সাদেকুর রহমানের এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে সাংবাদিকরা ফরিদগঞ্জের আরেক বেসরকারি হাসপাতাল ‘লাইফ জেনারেল’-এ যোগাযোগ করলে চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসে। হাসপাতালটির মার্কেটিং ও অ্যাডমিন বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক সোহেল মাহমুদ জানান, “আমাদের সফটওয়্যারভিত্তিক সিস্টেমে প্রতিটি ভর্তি রোগীর রেকর্ড থাকে। যাচাই করে দেখেছি, কহিনুর বেগম নামে গত কয়েকদিনে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি।”

এই তথ্য প্রকাশের পর স্পষ্ট হয়ে যায়—হাসপাতাল মালিকের বক্তব্য ছিল অসত্য। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়। কেবল একটি মৃত্যু নয়—এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে ফরিদগঞ্জের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা ও মিথ্যাচারের ভয়াবহ চিত্র।