ফরিদগঞ্জ ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদগঞ্জে সরকারি সম্পত্তি দখল করে ভবণ নির্মাণের অভিযোগ ১২ বছর পালিয়েও চাকরি বহাল! ফরিদগঞ্জে মাদ্রাসা সুপারের নজিরবিহীন জালিয়াতি ফাঁকা ঘরই ছিল টার্গেট।। দক্ষিণ শাশিয়ালীতে প্রবাসীর কষ্টার্জিত সম্পদ চুরি ফরিদগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে বসতঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ৪ ফরিদগঞ্জে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে কিশোর নিহত, আহত ৪ ফরিদগঞ্জে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ২৫ বছরের দ্বৈত চাকরির অভিযোগ স্কুল ফেলে ভূমি অফিসে প্রাথমিকের শিক্ষকরা! প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন প্রাথমিক বৃত্তি পেলো রাফি আহমেদ একই আকাশে দুই তারার দীপ্তি, ট্যালেন্টপুলে জমজ দুই বোন

অবশেষে প্রতারক মমতাজ চেক জালিয়াতির মামলায় কারাগারে

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ ৩৩৭ বার পড়া হয়েছে
চলন বলনে জমিদারি ভাব, কথা বার্তা আচার আচারণেও ফুটে উঠে আভিজাত্যের পরিচয়, কিন্তু বাস্তবে সে প্রতারক। এনজিও, প্রাইভেট বিভিন্ন সংস্থা যেখান থেকেই পেরেছেন সুযোগ বুঝে সেখান থেকেই ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। যুবকদের প্রবাস পাঠানোর কথা বলে হাতিয়েছেন লাখ-লাখ টাকা। প্রতিবেশি, স্বজন যার সাথেই সুসম্পর্ক ছিলো, তাদের সাথেই প্রতারণা করে প্রায় কোটি কোটি টাকার আত্মসাতের করেছেন এমন ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে  এই প্রতারক মমতাজ বেগম পারুল (৪০) এর বিরুদ্ধে। অবশেষে ৮২লক্ষ টাকার চেক জালিয়াতির মামলায় সে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) রাতে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মমতাজ বেগম পারুলকে গ্রেপ্তার করে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। সে ওই গ্রামের মুন্সি বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী। পরে তাকে রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) তাকে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
ভুক্তভোগি ও স্কুল শিক্ষিকা শাহানাজ বেগম পিনু আক্তার জানান, গৃদকালিন্দিয়া এলাকায় জমি কিনে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে ৮২ লক্ষ টাকা নেয় মমতাজ বেগম পারুল। এক পর্যায়ে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বিগত ২০২০ সালে তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। দীর্ঘদিন শুনানী ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৪ সালে আদালত তাকে টাকা পরিশোধ করার রায় দেয়। আদালত থেকে দুই মাসের সময় নিয়ে সে তালবাহানা করতে থাকে। অবশেষে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সেই প্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
প্রতারণার শিকার তাছলিমা বেগম নামে এক নারী জানান, তাকে গাব্দেরগাঁও এলাকায় ১৭ শতক জমি কিনে দিবে বলে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে ৪লক্ষ ৩০হাজার টাকা নিয়েছে মমতাজ বেগম পারুল। শুধু তাই নয় বেড়াতে যাওয়ার কথা  আমার ব্যবহৃত প্রায় ১৮ভরি স্বর্ণালংকার ধার নিয়ে আর ফেরত দেয়নি পারুল।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মহিলা কাউন্সিলার ফাতেমা বেগম জানান, আমিও পারুল কতৃক প্রতরণার শিকার। আমাকে জমি কিনে দিবে বলে বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে ৪২লক্ষ টাকা নিয়েছে। এছাড়া বেড়াতে যাওয়ার কথা  আমার ব্যবহৃত প্রায় ৮ভরি স্বর্ণালংকার ধার নিয়ে আর ফেরত দেয়নি পারুল।
কড়ৈতলী এলাকার ফাতেমা বেগম জানান, আমার ছেলেকে বিদেশে পাঠাবে বলে ২০১২ সালে আমার কাছ থেকে নগদ ১০লক্ষ টাকা নিয়েছে। সেই টাকা আজ-কাল ফেরত দেই-দিচ্ছি বলে আমাকে হয়রানি করছে।
পুর্ব বড়ালি এলাকার হাজেরা বেগম জানান, তার ছেলেকে বিদেশে পাঠাবে বলে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে প্রায় ৪ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না। এব্যাপারে তিনিও মামলা দায়ের করেছেন।
কালির বাজার এলাকার জেসমিন বেগম জানান, আমার সাথে সক্ষতা গড়ে ২০২৩ সালে ৮২ হাজার টাকা ধার নিয়ে দেই দিচ্ছি করে অদ্যাবধি দিচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ফার্মেসির মালিক কিরণ জানান, পরিচয়ের সূত্রধরে আমার নামে একটি এনজিও থেকে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে ঐ টাকা আজও পরিশোধ করছে না। এছাড়া আমার স্ত্রীর ব্যবহৃত প্রায় ২ ভরি ওজনের স্বার্নালংকার ধার নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না।
এবিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারী পরোয়ানা মূলে মততাজ বেগম পারুলকে আটক করে আদালতে প্রেরন করা হয়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অবশেষে প্রতারক মমতাজ চেক জালিয়াতির মামলায় কারাগারে

আপডেট সময় : ১০:৫৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
চলন বলনে জমিদারি ভাব, কথা বার্তা আচার আচারণেও ফুটে উঠে আভিজাত্যের পরিচয়, কিন্তু বাস্তবে সে প্রতারক। এনজিও, প্রাইভেট বিভিন্ন সংস্থা যেখান থেকেই পেরেছেন সুযোগ বুঝে সেখান থেকেই ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। যুবকদের প্রবাস পাঠানোর কথা বলে হাতিয়েছেন লাখ-লাখ টাকা। প্রতিবেশি, স্বজন যার সাথেই সুসম্পর্ক ছিলো, তাদের সাথেই প্রতারণা করে প্রায় কোটি কোটি টাকার আত্মসাতের করেছেন এমন ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে  এই প্রতারক মমতাজ বেগম পারুল (৪০) এর বিরুদ্ধে। অবশেষে ৮২লক্ষ টাকার চেক জালিয়াতির মামলায় সে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) রাতে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মমতাজ বেগম পারুলকে গ্রেপ্তার করে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। সে ওই গ্রামের মুন্সি বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী। পরে তাকে রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) তাকে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
ভুক্তভোগি ও স্কুল শিক্ষিকা শাহানাজ বেগম পিনু আক্তার জানান, গৃদকালিন্দিয়া এলাকায় জমি কিনে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে ৮২ লক্ষ টাকা নেয় মমতাজ বেগম পারুল। এক পর্যায়ে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বিগত ২০২০ সালে তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। দীর্ঘদিন শুনানী ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৪ সালে আদালত তাকে টাকা পরিশোধ করার রায় দেয়। আদালত থেকে দুই মাসের সময় নিয়ে সে তালবাহানা করতে থাকে। অবশেষে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সেই প্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
প্রতারণার শিকার তাছলিমা বেগম নামে এক নারী জানান, তাকে গাব্দেরগাঁও এলাকায় ১৭ শতক জমি কিনে দিবে বলে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে ৪লক্ষ ৩০হাজার টাকা নিয়েছে মমতাজ বেগম পারুল। শুধু তাই নয় বেড়াতে যাওয়ার কথা  আমার ব্যবহৃত প্রায় ১৮ভরি স্বর্ণালংকার ধার নিয়ে আর ফেরত দেয়নি পারুল।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মহিলা কাউন্সিলার ফাতেমা বেগম জানান, আমিও পারুল কতৃক প্রতরণার শিকার। আমাকে জমি কিনে দিবে বলে বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে ৪২লক্ষ টাকা নিয়েছে। এছাড়া বেড়াতে যাওয়ার কথা  আমার ব্যবহৃত প্রায় ৮ভরি স্বর্ণালংকার ধার নিয়ে আর ফেরত দেয়নি পারুল।
কড়ৈতলী এলাকার ফাতেমা বেগম জানান, আমার ছেলেকে বিদেশে পাঠাবে বলে ২০১২ সালে আমার কাছ থেকে নগদ ১০লক্ষ টাকা নিয়েছে। সেই টাকা আজ-কাল ফেরত দেই-দিচ্ছি বলে আমাকে হয়রানি করছে।
পুর্ব বড়ালি এলাকার হাজেরা বেগম জানান, তার ছেলেকে বিদেশে পাঠাবে বলে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে প্রায় ৪ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না। এব্যাপারে তিনিও মামলা দায়ের করেছেন।
কালির বাজার এলাকার জেসমিন বেগম জানান, আমার সাথে সক্ষতা গড়ে ২০২৩ সালে ৮২ হাজার টাকা ধার নিয়ে দেই দিচ্ছি করে অদ্যাবধি দিচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ফার্মেসির মালিক কিরণ জানান, পরিচয়ের সূত্রধরে আমার নামে একটি এনজিও থেকে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে ঐ টাকা আজও পরিশোধ করছে না। এছাড়া আমার স্ত্রীর ব্যবহৃত প্রায় ২ ভরি ওজনের স্বার্নালংকার ধার নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না।
এবিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারী পরোয়ানা মূলে মততাজ বেগম পারুলকে আটক করে আদালতে প্রেরন করা হয়ছে।