ফরিদগঞ্জে নিয়োগের পর ৬ মাসই অনুপস্থিত, হঠাৎ হাজিরা খাতায় সই
- আপডেট সময় : ১২:২০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশে নিয়োগ পেয়ে যোগদানের পর থেকেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন এক শিক্ষক। কোনো আনুষ্ঠানিক ছুটি বা অনুমোদন ছাড়াই টানা প্রায় ছয় মাস অনুপস্থিত থাকার পর হঠাৎ মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতায় সই করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন সহকর্মীরা। এর প্রতিবাদে শিক্ষকেরা একযোগে ক্লাস বর্জন করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কড়ৈতলী কে.এ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায়। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আরিফুজ্জামান ওই প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের প্রভাষক।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি রংপুরের মো. আরিফুজ্জামান কড়ৈতলী কে.এ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর রমজানের ৪০ দিনের ছুটি শেষে গত ৪ ও ৫ এপ্রিল মাত্র দুই দিন তিনি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এরপর কোনো লিখিত আবেদন বা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন।
দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে গত ১৬ জুলাই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম তাঁর স্থায়ী ঠিকানায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান। ২২ জুলাই দেওয়া জবাবে ওই শিক্ষক জানান, তিনি গুরুতর অসুস্থ থাকায় প্রতিষ্ঠানে আসতে পারেননি।
তবে কোনো ছুটি মঞ্জুর না হওয়া সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে হঠাৎ মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতায় সই করেন আরিফুজ্জামান। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। তাঁরা অনিয়মের প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পরে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম ওই প্রভাষকের করা সই বাতিল করেন। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষকেরা পুনরায় পাঠদানে ফিরে যান।
অভিযোগের বিষয়ে প্রভাষক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “যোগদানের পরই আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি। চিকিৎসকের পরামর্শে ছয় মাস পূর্ণ বিশ্রামে ছিলাম। সুস্থ হয়ে আজ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছি। কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেনে নেব।”
কড়ৈতলী কে.এ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “তিনি বিধি অমান্য করে একটানা প্রায় ছয় মাস অনুপস্থিত ছিলেন। আজ হঠাৎ এসে হাজিরা খাতায় সই করায় শিক্ষকেরা ক্লাস বর্জন করেন। পরে তাঁর সই বাতিল করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম আমাকে মুঠোফোনে জানিয়েছেন। আমি অফিসিয়াল কাজে অফিসের বাইরে থাকায় আগামী রোববার সকালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “কোনো শিক্ষক নিয়মবহির্ভূতভাবে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকে হঠাৎ এসে হাজিরা খাতায় সই করতে পারেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










