ফরিদগঞ্জ ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদগঞ্জে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ দুই মাদক কারবারিকে গাছের সাথে বেধে গণধোলাই দিয়ে পুলিশ দিলো জনতা নিজের ঘর নেই, সড়কের পাশে বর্জ্য।। এ কেমন প্রথম শ্রেণির পৌরসভা! পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ মতবিনিময় সভা ও এটিএম বুথ উদ্বোধন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনওর উদ্যোগে আবু তাহের পেলেন অটোরিকশা ভুয়া সাংবাদিক ও মা’দ’ক কারবারি কামরুল হাসান রনিকে গ্রে’প্তা’রে’র দাবিতে মানববন্ধন ফরিদগঞ্জে পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের ৪৪৭তম শাখার উদ্বোধন পা হারিয়েও হার মানেননি আবু তাহের-জেসমিন ফরিদগঞ্জে কসমিক এয়ারের ফ্রি সেমিনার ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জের গৃহবধূ মিশু হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

এক নারীর মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্ন ডা. নুসরাতের যোগ্যতা কতটুকু ?

শামীম হাসান
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫ ১৩৩৭ বার পড়া হয়েছে

সিজারিয়ান অপারেশনের দায়িত্ব নেওয়ার মতো চিকিৎসাগত যোগ্যতা তাঁর ছিল তো? এক তরুণী মায়ের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফরিদগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন ডা. নুসরাত জাহান বিন্তী।

ঘটনা অনুসন্ধানে জানা যায়, ডা. বিন্তী নিজের পরিচয় দেন এমবিবিএস (ডিইউ), সিএমইউ (আল্ট্রা), এবং এফসিপিএস (শেষ পর্ব) গাইনী ও অবসে অধ্যয়নরত হিসেবে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফরিদগঞ্জের লাইফ জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করে আসছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— এত বড় সার্জারি করার আইনগত ও চিকিৎসাগত অধিকার তাঁর আদৌ আছে কি?

২৩ বছর বয়সী গৃহবধূ ফারিয়া আক্তার ছিলেন তাঁর নিয়মিত রোগী। ২০ জুলাই সিজারের সময় লাইফ জেনারেল হাসপাতালে তার অপারেশনে গুরুতর জটিলতা দেখা দেয়। দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর হয় তিন দফা অপারেশন। অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ফারিয়া।

ঢাকা মেডিকেলের মৃত্যু সনদে লেখা হয়েছে— Placenta Increta, Septic Shock, Hypovolemic Shock।
অথচ এত গুরুতর শারীরিক অবস্থার কোনো পূর্বাভাস তিনি দিতে পারেননি অভিযুক্ত ডা. বিন্তী।

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, এমন জটিলতা শনাক্ত করতে একজন দক্ষ গাইনী ও অবস বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন, যিনি FCPS (সম্পূর্ণ) পাশ করেছেন এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিতভাবে অস্ত্রোপচার করার লাইসেন্সধারী। কিন্তু ডা. বিস্তীর ক্ষেত্রেই সেটি প্রশ্নবিদ্ধ।

শুধু এটি নয়, অভিযুক্ত এই ডাক্তারের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। লাইফ জেনারেল হাসপাতালে সিজারের সময় আরেক নারীর জরায়ু কেটে ফেলার ঘটনায়ও নুসরাত বিস্তীর বিরুদ্ধে চিকিৎসাগত গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে পূর্বে।

স্থানীয়রা বলছেন, এমন ভুলের পরও তিনি দিনের পর দিন সিজার করে যাচ্ছেন, যা এক ধরনের মানবিক ও আইনি অপরাধের নামান্তর।

চিকিৎসা বিধি অনুযায়ী সিজার করার জন্য প্রয়োজনীয়তা এমবিবিএস পাশ করে সরকারি অনুমোদিত FCPS (পূর্ণ) অথবা MS গাইনী/অবস বিষয়ে সম্পন্ন করতে হয়। অস্ত্রোপচার পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞতা, নিবন্ধন ও অনুমোদন সনদ আবশ্যক। শুধু ‘শেষ পর্ব পরীক্ষার্থী’ পরিচয় দিয়ে কেউ সিজার করতে পারেন না।

আল্ট্রাসনোগ্রাফির জন্য CMU কোর্স এক ধরণের সংক্ষিপ্ত ট্রেনিং; এটি কোনো সার্জারির অনুমতি দেয় না। সুতরাং FCPS পাশ না করে এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া বারবার অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া গুরুতর চিকিৎসাগত অসঙ্গতি।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আলম বলেন “সিজার করার জন্য চিকিৎসকের যথাযথ সার্টিফিকেশন থাকা আবশ্যক। কোনো ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু ঘটলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফারিয়ার পরিবার বলছে, “এই ডাক্তার আমাদের মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমরা বিচার চাই।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে অযোগ্য চিকিৎসকের হাতে সিজার করা চলতে থাকলে, ফরিদগঞ্জে আর কোনো মা সন্তান জন্ম দিতে সাহস পাবে না।

ফারিয়ার মৃত্যুর মাধ্যমে সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “চিকিৎসক পরিচয়ে কে আসলে রোগী বাঁচান, আর কে ভুলের দোহাইয়ে প্রাণ কাড়েন?”

এই মৃত্যুর দায় কি ডা. বিস্তি এড়াতে পারবেন? নাকি এই ঘটনায় ফরিদগঞ্জবাসী জাগবে, আর কর্তৃপক্ষও নেবে কঠিন পদক্ষেপ?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এক নারীর মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্ন ডা. নুসরাতের যোগ্যতা কতটুকু ?

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

সিজারিয়ান অপারেশনের দায়িত্ব নেওয়ার মতো চিকিৎসাগত যোগ্যতা তাঁর ছিল তো? এক তরুণী মায়ের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফরিদগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন ডা. নুসরাত জাহান বিন্তী।

ঘটনা অনুসন্ধানে জানা যায়, ডা. বিন্তী নিজের পরিচয় দেন এমবিবিএস (ডিইউ), সিএমইউ (আল্ট্রা), এবং এফসিপিএস (শেষ পর্ব) গাইনী ও অবসে অধ্যয়নরত হিসেবে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফরিদগঞ্জের লাইফ জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করে আসছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— এত বড় সার্জারি করার আইনগত ও চিকিৎসাগত অধিকার তাঁর আদৌ আছে কি?

২৩ বছর বয়সী গৃহবধূ ফারিয়া আক্তার ছিলেন তাঁর নিয়মিত রোগী। ২০ জুলাই সিজারের সময় লাইফ জেনারেল হাসপাতালে তার অপারেশনে গুরুতর জটিলতা দেখা দেয়। দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর হয় তিন দফা অপারেশন। অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ফারিয়া।

ঢাকা মেডিকেলের মৃত্যু সনদে লেখা হয়েছে— Placenta Increta, Septic Shock, Hypovolemic Shock।
অথচ এত গুরুতর শারীরিক অবস্থার কোনো পূর্বাভাস তিনি দিতে পারেননি অভিযুক্ত ডা. বিন্তী।

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, এমন জটিলতা শনাক্ত করতে একজন দক্ষ গাইনী ও অবস বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন, যিনি FCPS (সম্পূর্ণ) পাশ করেছেন এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিতভাবে অস্ত্রোপচার করার লাইসেন্সধারী। কিন্তু ডা. বিস্তীর ক্ষেত্রেই সেটি প্রশ্নবিদ্ধ।

শুধু এটি নয়, অভিযুক্ত এই ডাক্তারের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। লাইফ জেনারেল হাসপাতালে সিজারের সময় আরেক নারীর জরায়ু কেটে ফেলার ঘটনায়ও নুসরাত বিস্তীর বিরুদ্ধে চিকিৎসাগত গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে পূর্বে।

স্থানীয়রা বলছেন, এমন ভুলের পরও তিনি দিনের পর দিন সিজার করে যাচ্ছেন, যা এক ধরনের মানবিক ও আইনি অপরাধের নামান্তর।

চিকিৎসা বিধি অনুযায়ী সিজার করার জন্য প্রয়োজনীয়তা এমবিবিএস পাশ করে সরকারি অনুমোদিত FCPS (পূর্ণ) অথবা MS গাইনী/অবস বিষয়ে সম্পন্ন করতে হয়। অস্ত্রোপচার পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞতা, নিবন্ধন ও অনুমোদন সনদ আবশ্যক। শুধু ‘শেষ পর্ব পরীক্ষার্থী’ পরিচয় দিয়ে কেউ সিজার করতে পারেন না।

আল্ট্রাসনোগ্রাফির জন্য CMU কোর্স এক ধরণের সংক্ষিপ্ত ট্রেনিং; এটি কোনো সার্জারির অনুমতি দেয় না। সুতরাং FCPS পাশ না করে এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া বারবার অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া গুরুতর চিকিৎসাগত অসঙ্গতি।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আলম বলেন “সিজার করার জন্য চিকিৎসকের যথাযথ সার্টিফিকেশন থাকা আবশ্যক। কোনো ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু ঘটলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফারিয়ার পরিবার বলছে, “এই ডাক্তার আমাদের মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমরা বিচার চাই।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে অযোগ্য চিকিৎসকের হাতে সিজার করা চলতে থাকলে, ফরিদগঞ্জে আর কোনো মা সন্তান জন্ম দিতে সাহস পাবে না।

ফারিয়ার মৃত্যুর মাধ্যমে সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “চিকিৎসক পরিচয়ে কে আসলে রোগী বাঁচান, আর কে ভুলের দোহাইয়ে প্রাণ কাড়েন?”

এই মৃত্যুর দায় কি ডা. বিস্তি এড়াতে পারবেন? নাকি এই ঘটনায় ফরিদগঞ্জবাসী জাগবে, আর কর্তৃপক্ষও নেবে কঠিন পদক্ষেপ?