সংবাদ শিরোনাম ::
৬০ হাজার টাকা উত্তোলন, এসএমএস এলো ১ লক্ষ টাকার
নিজস্ব প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৮:৪৮:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

একদিকে ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন, অন্যদিকে মুঠোফোনে বার্তা, উত্তোলন হয়েছে এক লাখ! নিজের হিসাবের এমন গরমিলে উদ্বিগ্ন হয়ে ব্যাংকে ছুটে গেলেন লতিফগঞ্জ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক মো. মহিউদ্দিন। সেখানে গিয়ে টাকা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের বদলে তাকে পড়তে হলো নতুন বিড়ম্বনায়, ব্যাংক কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে উঠল প্রশ্ন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ফরিদগঞ্জের কলাবাগান এলাকার দ্বিতীয় তলায় জনতা ব্যাংক পিএলসি’র শাখায় যান মহিউদ্দিন। তার দাবি, চলতি মাসে এটিএম কার্ড দিয়ে ২০ হাজার টাকা করে তিন দফায় মোট ৬০ হাজার টাকা তোলেন তিনি। অথচ মুঠোফোনে আসে ২০ হাজার টাকা করে পাঁচ দফায় মোট এক লাখ টাকা উত্তোলনের এসএমএস। বিষয়টি জানাতে ব্যাংক ব্যবস্থাপক ফখরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে আবেদন নিয়ে ব্যাংকে আসতে বলা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে গিয়ে ব্যবস্থাপককে পাওয়া যায়নি। পরে সেকেন্ড অফিসার মো. সাইদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন মহিউদ্দিন। তাকে দুটি আবেদন ফরম দেওয়া হয়। ফরম পূরণের প্রক্রিয়া জানতে চাইলে সাইদ হোসেন বিরক্তি প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এরই মধ্যে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা নিজেদের পরিচয় দেন এবং দৈনিক ইত্তেফাক, আরটিভি ও দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের পরিচয়পত্র দেখান। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সকাল ১১টা পর্যন্ত ব্যবস্থাপক ব্যাংকে না আসায় তার অনুপস্থিতির ছবি তুলতে গেলে সেকেন্ড অফিসার মো. সাইদ হোসেন বলে ওঠেন ‘কিসের সাংবাদিক?’ এ সময় ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীকে ইশারা করে সাংবাদিকদের বের করে দেয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। ব্যাংক থেকে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত নিরাপত্তাকর্মীরা একাধিকবার তাদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।
একাধিক সাংবাদিকের ব্যাক্তিগত ভিজিটিং কার্ড দেখানোর পরও এমন মন্তব্যের কারণ জানতে চাওয়া হলে সাইদ হোসেন কোনো উত্তর দেননি। ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে আরও কয়েকজন গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আদর্শ একাডেমির শিক্ষক রাসেল ইব্রাহীম অভিযোগ করেন, একদিন ব্যাংকে গেলে ব্যবস্থাপক তাকে উদ্দেশ্য করে ‘এই হোলাডা’ বলে সম্বোধন করেন। তার দাবি, গ্রাহকদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের আচরণে সৌহার্দ্যের অভাব রয়েছে। গ্রাহক রায়হান খান বলেন, “জনতা ব্যাংকে এসে আমার শিক্ষা হয়ে গেছে। জীবনে বেঁচে থাকলে আর কখনো এই ব্যাংকে যাব না।
আল-আমীন ভূঁইয়ার অভিযোগ, ব্যাংকটির কয়েকজন কর্মকর্তা গ্রাহকদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন যেন ব্যাংকটি তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি।
মো. আজাদ বলেন, কয়েকজন কর্মকর্তার আচরণ সভ্য মানুষের মধ্যে পড়ে না। আমার সঙ্গেও একদিন তীব্র তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল
ব্যাংকটির ফরিদগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক ফখরুল ইসলামের কাছে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে উপস্থিত না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অফিসের কাজে বাইরে ছিলাম। গ্রাহক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের অসৌজন্যমূলক আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আমি মন্তব্য করব না।
গ্রাহকসেবা যেখানে একটি ব্যাংকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব, সেখানে ফরিদগঞ্জের জনতা ব্যাংক শাখাকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ এখন গ্রাহকদের মনে তৈরি করেছে নানা প্রশ্ন।











