ফরিদগঞ্জ ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে হাজারো মানুষের দূর্ভোগ লাগবে অবশেষে নতুন ভাবে নির্মিত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ কাটাখালী ব্রীজটি

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫ ৬৫৭ বার পড়া হয়েছে

ফরিদগঞ্জে ৫০ গ্রামের মানুষের ডাকাতিয়া নদী পারাপারের ভরসাস্থল কাটাখালী সেতুটি অবশেষে নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্মাণের তিনদশক পার হলেও একবারের জন্য সংষ্কার না হওয়ায় জীবনের ঝুঁিক নিয়ে পার হতে হচ্ছে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, কয়েকটি বাজারের ব্যবসায়ীসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষকে। এ নিয়ে চাঁদপুর জেলার সরাসরি দৈনিক পত্রিকা “দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ”সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। অবশেষে মারণ ফাঁদে পরিনত হওয়ায় এই কাটাখালী সেতুর স্থলে নতুন সেতু হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ নিশ্চিত করেছে নতুন করে নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া লাইভে রয়েছে। আগামী ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে নতুন সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানায়, তিন দশক পূর্বে সেই সময়কার চাহিদা মোতাবেক ডাকাতিয়া নদীর উপর কাটাখালী সেতুটি নির্মিত হয়। সময়ের পরিক্রমায় এটির আর সংস্কার না হওয়ায় এটি পুরো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। নির্মাণের তিন দশক পার হলেও সংস্কার কিংবা মেরামত হয়নি গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি। ফলে ক্ষয়ে গেছে সেতুর পিলার, ভেঙে পড়েছে পাটাতন, রেলিংয়েরও একই অবস্থা। সেতুর মাঝ বরাবর এসে আটকে যাচ্ছে অটোরিকশা। যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও প্রয়োজনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকিতে নিয়ে প্রায় ৫০ গ্রামের ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ সেতু পার হতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন কবির জানান, নির্মাণের পর গত ৩০ বছরে একবারও মেরামত কিংবা সংস্কার হয়নি এই সেতু। তারপরও বিকল্প পথ না থাকায় মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ জানায়, প্রায় ৮ কোটি ব্যয়ে বৃহত্তর কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং চাঁদপুর জেলা গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর উপর কাটাখালী বাজার হয়ে ফরিদগঞ্জ আরএইচডি-রামপুর জিসি-তে ৬৪.১০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এটি ইতঃমধ্যেই টেন্ডার লাইভে রয়েছে। সবকিছু নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন চলতে বছরের অক্টোবর মাস থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে আগামী ২০২৬ সালে অক্টোবর মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবরার আহমদ বলেন, কাটাখালী পুরাতন সেতুর স্থানে নতুন সেতু কোন স্থানে নির্মিত হবে, সেই লক্ষ্যে কয়েকদিন পুর্বে প্রকল্পের পিডি সিরাজুল ইসলাম সেতুর স্থান পরিদর্শন করে গিয়েছেন। আমাদের ইচ্ছে ছিল কাটাখালী সেতুর স্থানে একটি দৃষ্টিনন্দন সেতুর করা। কিন্তু নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসে গার্ডার ব্রীজ নির্মিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফরিদগঞ্জে হাজারো মানুষের দূর্ভোগ লাগবে অবশেষে নতুন ভাবে নির্মিত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ কাটাখালী ব্রীজটি

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

ফরিদগঞ্জে ৫০ গ্রামের মানুষের ডাকাতিয়া নদী পারাপারের ভরসাস্থল কাটাখালী সেতুটি অবশেষে নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্মাণের তিনদশক পার হলেও একবারের জন্য সংষ্কার না হওয়ায় জীবনের ঝুঁিক নিয়ে পার হতে হচ্ছে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, কয়েকটি বাজারের ব্যবসায়ীসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষকে। এ নিয়ে চাঁদপুর জেলার সরাসরি দৈনিক পত্রিকা “দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ”সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। অবশেষে মারণ ফাঁদে পরিনত হওয়ায় এই কাটাখালী সেতুর স্থলে নতুন সেতু হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ নিশ্চিত করেছে নতুন করে নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া লাইভে রয়েছে। আগামী ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে নতুন সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানায়, তিন দশক পূর্বে সেই সময়কার চাহিদা মোতাবেক ডাকাতিয়া নদীর উপর কাটাখালী সেতুটি নির্মিত হয়। সময়ের পরিক্রমায় এটির আর সংস্কার না হওয়ায় এটি পুরো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। নির্মাণের তিন দশক পার হলেও সংস্কার কিংবা মেরামত হয়নি গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি। ফলে ক্ষয়ে গেছে সেতুর পিলার, ভেঙে পড়েছে পাটাতন, রেলিংয়েরও একই অবস্থা। সেতুর মাঝ বরাবর এসে আটকে যাচ্ছে অটোরিকশা। যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও প্রয়োজনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকিতে নিয়ে প্রায় ৫০ গ্রামের ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ সেতু পার হতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন কবির জানান, নির্মাণের পর গত ৩০ বছরে একবারও মেরামত কিংবা সংস্কার হয়নি এই সেতু। তারপরও বিকল্প পথ না থাকায় মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ জানায়, প্রায় ৮ কোটি ব্যয়ে বৃহত্তর কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং চাঁদপুর জেলা গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর উপর কাটাখালী বাজার হয়ে ফরিদগঞ্জ আরএইচডি-রামপুর জিসি-তে ৬৪.১০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এটি ইতঃমধ্যেই টেন্ডার লাইভে রয়েছে। সবকিছু নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন চলতে বছরের অক্টোবর মাস থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে আগামী ২০২৬ সালে অক্টোবর মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবরার আহমদ বলেন, কাটাখালী পুরাতন সেতুর স্থানে নতুন সেতু কোন স্থানে নির্মিত হবে, সেই লক্ষ্যে কয়েকদিন পুর্বে প্রকল্পের পিডি সিরাজুল ইসলাম সেতুর স্থান পরিদর্শন করে গিয়েছেন। আমাদের ইচ্ছে ছিল কাটাখালী সেতুর স্থানে একটি দৃষ্টিনন্দন সেতুর করা। কিন্তু নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসে গার্ডার ব্রীজ নির্মিত হচ্ছে।