ফরিদগঞ্জ ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদগঞ্জে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ফরিদগঞ্জে নিয়োগের পর ৬ মাসই অনুপস্থিত, হঠাৎ হাজিরা খাতায় সই ফরিদগঞ্জে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার অঙ্গীকার নিয়ে মা ও শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন ফরিদগঞ্জে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন : সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৬ ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা গভীর রাতে জানালার গ্রিল কেটে হানা, গলায় দা ঠেকিয়ে লুট ২ ভরি স্বর্ণ কার দাপটে চলে ফরিদগঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিস ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন, এসএমএস এলো ১ লক্ষ টাকার নতুন নেতৃত্বে ‘স্বপ্নের ফরিদগঞ্জ’ ফরিদগঞ্জে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ দুই মাদক কারবারিকে গাছের সাথে বেধে গণধোলাই দিয়ে পুলিশ দিলো জনতা

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্য আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার অভিযোগে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ৩৩৬ বার পড়া হয়েছে

চুরির ঘটনার কেন্দ্র করে বিচার এবং বিচার পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। তবে মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আসামিদের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে। চুরির বিচারসহ সংশ্লিষ্ট কোনো কাজেই তারা জড়িত ছিলেন না। ফলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিযুক্তদের স্বজনরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) দুপুরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গাবিদপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমধুরা গ্রামে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, হাঁস চুরির অপবাদ দিয়ে বাড়িতে সালিশ বসিয়ে বিচার করা হয় এবং নাক খত দেওয়া ও জরিমানা করার কারণে মা. মাসুম মিজি (২০) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন—এমন অভিযোগ এনে ওই যুবকের বাবা আলাউদ্দিন মিজি ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) রাতে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
তবে মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা কোনোভাবেই ওই বিচার বা সংশ্লিষ্ট ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করা হয়। মামলার প্রধান আসামি সাহেল মল্লা কয়েক মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাড়িতে ছিলেন। অন্যরাও এই বিচার বা ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না—তবুও তাদের আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহিন সরকার বলেন, সাহেল মল্লাসহ অন্যরা সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে বিচার করেন ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান, যিনি আওয়ামী লীগ করেন। তার বিচারেই এই আত্মহত্যা হয়েছে। আমাদের দলের লোকজনকে হয়রানি করতে এই মামলা সাজানো হয়েছে। এটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। আমরা থানার পুলিশের কাছে সঠিক তদন্ত করে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাই।
মামলার সাক্ষী আল আমিন জানান, তাকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি জানেন না। তাছাড়া ওই বিচারের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু সাহেল মল্লাসহ অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। কেন তাদের আসামি করা হয়েছে তা তিনি জানেন না।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মামুন, জাহাঙ্গীর হাসান, মামলার প্রধান আসামি সাহেল মল্লার স্ত্রী তাসলিমা বেগম এবং পৌর যুবদল নেতা রাজু পাটওয়ারী।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ হাঁস চুরির ঘটনায় চরমধুরা গ্রামের মাসুম মিজি (২০)-কে পরদিন ৮ মার্চ স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানসহ এলাকার কয়েকজনের সামনে বিচার করা হয়। ওই বিচারে তাকে নাক খত দেওয়া এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বিচার মেনে নিতে না পেরে ওই দিন বিকালে মাসুম মিজি নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হেলাল উদ্দিন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্য আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার অভিযোগে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০২:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

চুরির ঘটনার কেন্দ্র করে বিচার এবং বিচার পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। তবে মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আসামিদের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে। চুরির বিচারসহ সংশ্লিষ্ট কোনো কাজেই তারা জড়িত ছিলেন না। ফলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিযুক্তদের স্বজনরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) দুপুরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গাবিদপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমধুরা গ্রামে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, হাঁস চুরির অপবাদ দিয়ে বাড়িতে সালিশ বসিয়ে বিচার করা হয় এবং নাক খত দেওয়া ও জরিমানা করার কারণে মা. মাসুম মিজি (২০) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন—এমন অভিযোগ এনে ওই যুবকের বাবা আলাউদ্দিন মিজি ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) রাতে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
তবে মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা কোনোভাবেই ওই বিচার বা সংশ্লিষ্ট ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করা হয়। মামলার প্রধান আসামি সাহেল মল্লা কয়েক মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাড়িতে ছিলেন। অন্যরাও এই বিচার বা ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না—তবুও তাদের আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহিন সরকার বলেন, সাহেল মল্লাসহ অন্যরা সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে বিচার করেন ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান, যিনি আওয়ামী লীগ করেন। তার বিচারেই এই আত্মহত্যা হয়েছে। আমাদের দলের লোকজনকে হয়রানি করতে এই মামলা সাজানো হয়েছে। এটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। আমরা থানার পুলিশের কাছে সঠিক তদন্ত করে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাই।
মামলার সাক্ষী আল আমিন জানান, তাকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি জানেন না। তাছাড়া ওই বিচারের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু সাহেল মল্লাসহ অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। কেন তাদের আসামি করা হয়েছে তা তিনি জানেন না।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মামুন, জাহাঙ্গীর হাসান, মামলার প্রধান আসামি সাহেল মল্লার স্ত্রী তাসলিমা বেগম এবং পৌর যুবদল নেতা রাজু পাটওয়ারী।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ হাঁস চুরির ঘটনায় চরমধুরা গ্রামের মাসুম মিজি (২০)-কে পরদিন ৮ মার্চ স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানসহ এলাকার কয়েকজনের সামনে বিচার করা হয়। ওই বিচারে তাকে নাক খত দেওয়া এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বিচার মেনে নিতে না পেরে ওই দিন বিকালে মাসুম মিজি নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হেলাল উদ্দিন।