ফরিদগঞ্জ ০৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদগঞ্জের গৃহবধূ মিশু হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন ফরিদগঞ্জে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩, ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ফরিদগঞ্জে ২য় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় লম্পট অটোরিকশা চালক গ্রেপ্তার, আদালতে জবানবন্দি জে কে ফিলিং স্টেশনের মুচলেকা ও লাখ টাকা জরিমানা ফরিদগঞ্জে কাছিয়াড়া ফুটসেল ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে ফরিদগঞ্জে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল চট্টগ্রামে সংবর্ধনা গ্রহণ করলেন ফরিদগঞ্জ কে আর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাসুম আলম তালুকদার ৩৫ দিনেও তদন্ত প্রতিবেদন হয়নি ৩৫ বছরের সংসার, তবু স্বামীর কাছে ‘অচেনা’ আফিয়া পাঁচ দশকের চেনা পথেই থামল তাহের মাস্টারের জীবন

জে কে ফিলিং স্টেশনের মুচলেকা ও লাখ টাকা জরিমানা

মেহেদী হাসান
  • আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ভোক্তা ও সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কথা না ভেবে, শুধু অধিক মুনাফার লোভে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চলছিল এক ভয়ংকর ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস জালিয়াতি ব্যবসা। কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড ছাড়াই, স্থানীয় অটোমোবাইল এলপিজি ফিলিং স্টেশন থেকে বাসাবাড়িতে ব্যবহারের সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল করে বাজারজাত করছিল একটি অসাধু সিন্ডিকেট। অবশেষে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের তাৎক্ষণিক অভিযানে এই চক্রের মূল আস্তানায় হানা দিয়ে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট (গতকাল) ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরের ভাটিয়ালপুর এলাকার “জে কে এলপিজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্সন সেন্টার”-এ প্রকাশ্য দিবালোকে নামী-দামী ব্র্যান্ডের খালি সিলিন্ডারে অবৈধভাবে গ্যাস রিফিল করার দৃশ্য সামনে আসে। সরকারের আইন অনুযায়ী, অটোমোবাইল ফিলিং স্টেশন থেকে গৃহস্থালির সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং চরম বিস্ফোরণ-ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু ব্যবসায়ী ও ফিলিং স্টেশন মালিকের এই সিন্ডিকেটটি বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে গ্যাস কিনে সাধারণ মানুষের কাছে আসল ব্র্যান্ডের দামে সরবরাহ করছিল।

এই জালিয়াতির ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ফরিদগঞ্জ সরকারি কলেজ রোড এলাকার ব্যবসায়ী মো: রেজাউল করিমের গোডাউনে। সেখানে নামী ব্র্যান্ডের বোতলে ‘নকল সিল’ মারা বিপুল পরিমাণ সিলিন্ডার মজুত ও বিক্রির তথ্য ফাঁস হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

গণমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর অনিয়মের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। আজ ১৬ আগস্ট (রবিবার) ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ. আর. এম. জাহিদ হাসান-এর নেতৃত্বে উক্ত ফিলিং স্টেশনে একটি বিশেষ মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে লাইসেন্স না থাকা এবং অটোমোবাইল স্টেশন থেকে গৃহস্থালির সিলিন্ডারে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে গ্যাস রিফিলের অকাট্য প্রমাণ মেলে। অপরাধের সত্যতা পাওয়ার পর আদালতের আদেশে ‘জে কে এলপিজি ফিলিং স্টেশন’-এর মালিক তোফাজ্জল হোসেনকে নগদ ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা করা হয়।

জরিমানার পাশাপাশি জননিরাপত্তার স্বার্থে উক্ত ফিলিং স্টেশনের এই অবৈধ গ্যাস রিফিল কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন জনস্বার্থবিরোধী ও দণ্ডনীয় অপরাধে লিপ্ত হবেন না মর্মে স্টেশন মালিক তোফাজ্জল হোসেন প্রশাসনের কাছে লিখিত মুচলেকা প্রদান করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ ল্যাব টেস্ট ও সিলিং ছাড়া অননুমোদিতভাবে গ্যাস রিফিল করার কারণে যেকোনো মুহূর্তে সিলিন্ডার ফেটে বড় ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটতে পারত। ফরিদগঞ্জের মতো একটি জনবহুল এলাকায় এই সিন্ডিকেট যেভাবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করছিল, তা সত্যিই উদ্বেগের।

স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য নেপথ্যের হোতাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জে কে ফিলিং স্টেশনের মুচলেকা ও লাখ টাকা জরিমানা

আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ভোক্তা ও সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কথা না ভেবে, শুধু অধিক মুনাফার লোভে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চলছিল এক ভয়ংকর ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস জালিয়াতি ব্যবসা। কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড ছাড়াই, স্থানীয় অটোমোবাইল এলপিজি ফিলিং স্টেশন থেকে বাসাবাড়িতে ব্যবহারের সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল করে বাজারজাত করছিল একটি অসাধু সিন্ডিকেট। অবশেষে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের তাৎক্ষণিক অভিযানে এই চক্রের মূল আস্তানায় হানা দিয়ে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট (গতকাল) ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরের ভাটিয়ালপুর এলাকার “জে কে এলপিজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্সন সেন্টার”-এ প্রকাশ্য দিবালোকে নামী-দামী ব্র্যান্ডের খালি সিলিন্ডারে অবৈধভাবে গ্যাস রিফিল করার দৃশ্য সামনে আসে। সরকারের আইন অনুযায়ী, অটোমোবাইল ফিলিং স্টেশন থেকে গৃহস্থালির সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং চরম বিস্ফোরণ-ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু ব্যবসায়ী ও ফিলিং স্টেশন মালিকের এই সিন্ডিকেটটি বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে গ্যাস কিনে সাধারণ মানুষের কাছে আসল ব্র্যান্ডের দামে সরবরাহ করছিল।

এই জালিয়াতির ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ফরিদগঞ্জ সরকারি কলেজ রোড এলাকার ব্যবসায়ী মো: রেজাউল করিমের গোডাউনে। সেখানে নামী ব্র্যান্ডের বোতলে ‘নকল সিল’ মারা বিপুল পরিমাণ সিলিন্ডার মজুত ও বিক্রির তথ্য ফাঁস হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

গণমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর অনিয়মের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। আজ ১৬ আগস্ট (রবিবার) ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ. আর. এম. জাহিদ হাসান-এর নেতৃত্বে উক্ত ফিলিং স্টেশনে একটি বিশেষ মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে লাইসেন্স না থাকা এবং অটোমোবাইল স্টেশন থেকে গৃহস্থালির সিলিন্ডারে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে গ্যাস রিফিলের অকাট্য প্রমাণ মেলে। অপরাধের সত্যতা পাওয়ার পর আদালতের আদেশে ‘জে কে এলপিজি ফিলিং স্টেশন’-এর মালিক তোফাজ্জল হোসেনকে নগদ ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা করা হয়।

জরিমানার পাশাপাশি জননিরাপত্তার স্বার্থে উক্ত ফিলিং স্টেশনের এই অবৈধ গ্যাস রিফিল কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন জনস্বার্থবিরোধী ও দণ্ডনীয় অপরাধে লিপ্ত হবেন না মর্মে স্টেশন মালিক তোফাজ্জল হোসেন প্রশাসনের কাছে লিখিত মুচলেকা প্রদান করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ ল্যাব টেস্ট ও সিলিং ছাড়া অননুমোদিতভাবে গ্যাস রিফিল করার কারণে যেকোনো মুহূর্তে সিলিন্ডার ফেটে বড় ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটতে পারত। ফরিদগঞ্জের মতো একটি জনবহুল এলাকায় এই সিন্ডিকেট যেভাবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করছিল, তা সত্যিই উদ্বেগের।

স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য নেপথ্যের হোতাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।