সংবাদ শিরোনাম ::
জুতা হাতে প্রধান শিক্ষকের দিকে তেড়ে যাওয়া শিক্ষিকাই পদোন্নতি পেয়ে হলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক
নিজস্ব প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ১২:২০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান ও জুতা নিক্ষেপের চেষ্টার অভিযোগে তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ার পরও কোনো দৃশ্যমান শাস্তি নয়, বরং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পেয়েছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার এক সহকারী শিক্ষিকা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক সমাজ ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রুস্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফারহানা জাহান নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতেন না। গত ৮ মে ২০২৫ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান হাজিরা খাতায় নিয়ম অনুযায়ী অনুপস্থিতির সংকেত চিহ্ন প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ১২ মে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় ওই সংকেত দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ফারহানা জাহান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রধান শিক্ষককে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে জুতা হাতে নিয়ে তাঁর দিকে তেড়ে যান। এ সময় বিদ্যালয়সংলগ্ন বাজারের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। স্থানীয়ভাবে ধারণ করা ভিডিওতেও ঘটনার কিছু অংশ ধারণ হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হয়।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আফতাবুল ইসলাম বলেন, “তদন্তে সহকারী শিক্ষিকা ফারহানা জাহানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন সুলতানাও অভিযোগের বিষয়ে অবগত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, “তিনি শাস্তিযোগ্য অন্যায় করেছেন।”
তবে সংশ্লিষ্টদের বিস্মিত করে তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও ফারহানা জাহানকে দক্ষিণ বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে জ্যেষ্ঠ একাধিক শিক্ষককে উপেক্ষা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত ও শাস্তির সুপারিশপ্রাপ্ত একজন শিক্ষিকাকে কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হলো?
জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. গিয়াস কবির বলেন, “অভিযোগ অনুযায়ী যদি এমন আচরণ প্রমাণিত হয়ে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে ফারহানা জাহান বলেন, “আপনারা যা লেখার লেখেন।”
রুস্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি আমার কর্মজীবনের সবচেয়ে কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করি।”
ফরিদগঞ্জের শিক্ষা অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন? তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও কেন ফারহানা জাহানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং কোন বিবেচনায় তাঁকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে? এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহল।










