ফরিদগঞ্জ ০৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জুতা হাতে প্রধান শিক্ষকের দিকে তেড়ে যাওয়া শিক্ষিকাই পদোন্নতি পেয়ে হলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পশ্চিম চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন অপেক্ষায় রইল তিন বছরের শিশু, সড়কে প্রাণ হারালেন বাবা ভাতিজার ন্যায় বিচার চাইলেন মোতাহার পাটওয়ারী বিএনপি নেতার বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া ঘটনায় পুলিশের হাতে আটক ২ বাবাকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে সড়কে প্রাণ ঝড়লো কলেজ শিক্ষার্থীর  কবরস্থানের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে প্রাণ গেল বৃদ্ধের বিয়ের দাবিতে অনশন ।। ছেলের মা-বোন ও চাচির মারধরে অচেতন অনশনকারী অবশেষে প্রতারক মমতাজ চেক জালিয়াতির মামলায় কারাগারে ফরিদগঞ্জ সাহিত্য সংসদের  উদ্যোগে পথচারীদের মাঝে ইফতার বিতরণ

শিক্ষার্থী নেই, কার্যক্রম বন্ধ, তবু চলছে মাদ্রাসার নামে চাঁদা সংগ্রহ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫ ৩৪৪ বার পড়া হয়েছে

 

শিক্ষক-শিক্ষার্থী নেই, নেই পাঠদান—কেবল একটি জরাজীর্ণ ভবন আর ঝুলন্ত সাইনবোর্ড। অথচ সেই সাইনবোর্ডের নাম ভাড়া দিয়ে চলছে সারাদেশে চাঁদাবাজির মহোৎসব। শিশুদের ভাড়া করে ‘দান অনুদান’ তোলার অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পোঁয়া গ্রামের কাটাখালি দারুল উলুম ক্বেরাতুল কোরআন মাদ্রাসা ও পীর মতিনিয়া এতিমখানাকে ঘিরে।

অভিযোগের তীর মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মাওলানা তাজাম্মুল হোসাইনের ছেলে কে.এম নুরে আলম সিদ্দিকী ও হাফেজ কে.এম মোবারক হোসাইনের দিকে। এ নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে প্রতিবছর সরকারি অনুদান পেত। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে শিক্ষার্থীরা চলে গেলে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক বছর আগে সরকারি অনুদানও বন্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু এরপরও মাদ্রাসার নামের রসিদ বই ব্যবহার করে সারাদেশে টাকা তোলা অব্যাহত রয়েছে। কিশোরদের ভাড়া করে রাস্তায় নামানো হয় দান সংগ্রহের জন্য।

স্থানীয় কিশোর রায়হান জানান, তিনি কমিশনের ভিত্তিতে রসিদ দিয়ে টাকা তুলেছেন। এলাকার বাসিন্দা মিজান ও নুরুল ইসলাম খোকন বলেন, “মাদ্রাসায় কোনো কার্যক্রম নেই। তারপরও প্রতারণা চলছে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

শাহীদা বেগম নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, তার ছেলেসহ আরও কয়েকজন কিশোরকে টুপি-পাঞ্জাবি পরিয়ে রসিদ বই হাতে দিয়ে দান সংগ্রহে পাঠানো হয়। টাকা উঠানোর পর সামান্য অংশ শিশুদের দেওয়া হলেও বাকিটা নুরে আলম ও মোবারকের পরিবার নেয় বলে অভিযোগ তার।

অভিযোগ অস্বীকার করে নুরে আলম বলেন, “টাকা তোলার বিষয়ে আমি জানি না। আমরা এখন মাদ্রাসা চালাই না।” মোবারক হোসাইন জানান, “মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রতিবছর মাহফিল হয়।” তবে নাম ভাড়া দিয়ে টাকা তোলার বিষয়ে তিনি এড়িয়ে যান।

ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক জুমায়েত হোসেন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে, প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থী না পাওয়ায় সরকারি অনুদান বন্ধ করা হয়েছে। তারা এখনো যদি রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করে থাকে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া বলেন, “বিষয়টি দুঃখজনক। খোঁজ নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শিক্ষার্থী নেই, কার্যক্রম বন্ধ, তবু চলছে মাদ্রাসার নামে চাঁদা সংগ্রহ

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

 

শিক্ষক-শিক্ষার্থী নেই, নেই পাঠদান—কেবল একটি জরাজীর্ণ ভবন আর ঝুলন্ত সাইনবোর্ড। অথচ সেই সাইনবোর্ডের নাম ভাড়া দিয়ে চলছে সারাদেশে চাঁদাবাজির মহোৎসব। শিশুদের ভাড়া করে ‘দান অনুদান’ তোলার অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পোঁয়া গ্রামের কাটাখালি দারুল উলুম ক্বেরাতুল কোরআন মাদ্রাসা ও পীর মতিনিয়া এতিমখানাকে ঘিরে।

অভিযোগের তীর মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মাওলানা তাজাম্মুল হোসাইনের ছেলে কে.এম নুরে আলম সিদ্দিকী ও হাফেজ কে.এম মোবারক হোসাইনের দিকে। এ নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে প্রতিবছর সরকারি অনুদান পেত। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে শিক্ষার্থীরা চলে গেলে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক বছর আগে সরকারি অনুদানও বন্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু এরপরও মাদ্রাসার নামের রসিদ বই ব্যবহার করে সারাদেশে টাকা তোলা অব্যাহত রয়েছে। কিশোরদের ভাড়া করে রাস্তায় নামানো হয় দান সংগ্রহের জন্য।

স্থানীয় কিশোর রায়হান জানান, তিনি কমিশনের ভিত্তিতে রসিদ দিয়ে টাকা তুলেছেন। এলাকার বাসিন্দা মিজান ও নুরুল ইসলাম খোকন বলেন, “মাদ্রাসায় কোনো কার্যক্রম নেই। তারপরও প্রতারণা চলছে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

শাহীদা বেগম নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, তার ছেলেসহ আরও কয়েকজন কিশোরকে টুপি-পাঞ্জাবি পরিয়ে রসিদ বই হাতে দিয়ে দান সংগ্রহে পাঠানো হয়। টাকা উঠানোর পর সামান্য অংশ শিশুদের দেওয়া হলেও বাকিটা নুরে আলম ও মোবারকের পরিবার নেয় বলে অভিযোগ তার।

অভিযোগ অস্বীকার করে নুরে আলম বলেন, “টাকা তোলার বিষয়ে আমি জানি না। আমরা এখন মাদ্রাসা চালাই না।” মোবারক হোসাইন জানান, “মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রতিবছর মাহফিল হয়।” তবে নাম ভাড়া দিয়ে টাকা তোলার বিষয়ে তিনি এড়িয়ে যান।

ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক জুমায়েত হোসেন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে, প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থী না পাওয়ায় সরকারি অনুদান বন্ধ করা হয়েছে। তারা এখনো যদি রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করে থাকে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া বলেন, “বিষয়টি দুঃখজনক। খোঁজ নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”