ভাতিজার ন্যায় বিচার চাইলেন মোতাহার পাটওয়ারী
- আপডেট সময় : ০৪:০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়া এবং বসত বাড়ি ও ফ্যাক্টরিতে হামলা করে মালামাল লুটপাটের অভিযোগ করেছেন তাঁর বড় ভাই নুরুল ইসলাম পাটওয়ারীর ছেলে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী। ৫ এপ্রিল রবিবার চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে মোতাহার পাটওয়ারীর ছেলে সাকিব হোসেন পাটওয়ারী (২৬) এবং অপর এক ভাই মোবারক হোসেন পাটওয়ারীর ছেলে সাব্বির হোসেন পাটওয়ারীকেও (৩৩) অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের বর্ণনায় তিনি বলেন, “ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন ৯৬ নং সাহাপুর মৌজার সিএস ৩৮ নং হাল বিএস ১২৫ নং ডিপি ৩১৩ নং খতিয়ান এর বিএস দাগ নং ৩৭০৭ এর অন্দরে ১৪ শতক সম্পত্তি আমার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি। আমি স্ব-পরিবারে ঢাকায় বসবাস করিলেও মাঝে মধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসিয়া মরহুম পিতার কবর জিয়ারত তৎসহ তথায় বসবাস করি। এছাড়াও বিগত অনুমান ২০ বছর পূর্বে গ্রামের অসহায় গরিব মহিলাদের অসহায়ত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে আমি আমার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত উক্ত সম্পত্তিতে সোনালী আঁশ নামে একটি জুতা ফ্যাক্টরি স্থাপন করি। উক্ত ফ্যাক্টরিতে মোট ৩৫ জন অসহায় নারী শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছে। অনুমান ০২ বছর পূর্বে থেকে বিবাদীগণ আমার অনুপস্থিতিতে দফায় দফায় আমার মালিকানাধীন সম্পত্তিতে জবর দখল এবং আমার এবং আমাদের পরিবারের সবাইকে মরহুম পিতার বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করার মানসে হামলা চালায়। একপর্যায়ে গত ০৬/০৮/২০২৪ ইং এবং ০৭/০৮/২০২৪ ইং তারিখ বর্ণিত বিবাদীগণ আমার উক্ত জুতা ফ্যাক্টরীতে হামলা চালাইয়া ফ্যাক্টরীর ০৪টি ঘর সম্পূর্ণরূপে ভাংচুর করিয়া আনুমানিক ৫০,০০,০০০/- (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং জুতা নির্মাণের কাঁচামালসহ অনুমান ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) জোড়া জুতা লুটপাট করিয়া নিয়া যায় যাহার টাকায় মূল্য ২৫,০০,০০০/- (পচিশ লক্ষ) টাকা। এছাড়াও বর্ণিত বিবাদীগণ ফ্যাক্টরী কর্মচারীদের বিবাদীগণ মারধরসহ কর্মচারীদের ব্যবহৃত মোবাইল ও বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় আমার কোম্পানির ভূমি কর্মকর্তা আমির হোসেন স্বপন ভূঁইয়া বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে সিআর-৫৭৪/২০২৪ নং মামলা দায়ের করলে পরিস্থিতি কিছুদিন শান্ত থাকে। সম্প্রতি গত ২৩/০৩/২০২৬ ইং তারিখ আমি আমার পিতার কবর জিয়ারত করতে বাড়িতে আসলে আমার আসার সংবাদ পেয়ে ঐদিন বিকেল অনুমান ০৩.০০ ঘটিকার সময় বর্ণিত বিবাদীগণ পুনরায় আমার বসত বাড়ি এবং জুতা ফ্যাক্টরিতে হামলা চালায়। এ সময় আমার বসত বাড়ির উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত একটি ডিপ টিউবওয়েল পাইপসহ ভেঙ্গে নিয়ে যায় এবং আমার জুতা ফ্যাক্টরি হইতে অনুমান ৪,০০০ (চার হাজার) জোড়া জুতা লুটপাট করে নিয়ে যায় যার বাজারমূল্য ১৭,০০,০০০/- (সতের লক্ষ) টাকা। আমার বোন মহসিনা পাটোয়ারী বাঁধা দিতে গেলে মোতাহের হোসেন পাটোয়ারী তাঁর গলা থেকে ০৩ (তিন) ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়া যায়। উক্ত ঘটনায় হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে সিআর-৩১৫/২০২৬ নং মামলা দায়ের করেছেন। এরপরও গত ০২/০৪/২০২৬ ইং তারিখ সকাল অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় বিবাদীগণ পুনরায় আমার বসত বাড়ি ও জুতা ফ্যাক্টরিতে হামলা চালাইয়া আমার বসত ঘরের চারপাশে স্থিত মোট ১০টি সিসিটিভি ক্যামেরা তৎসহ আমার সদর দরজা ভেঙ্গে আমার ঘরে রক্ষিত মূল্যবান দ্রব্যাদির ক্ষতিসাধন করে এবং নিয়ে যায়। যার অনুমানিক মূল্য ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা। অতঃপর বিবাদীগণ আমার বসত ঘর ও জুতা ফ্যাক্টরির চারপাশে ইট সিমেন্ট দিয়া ০৫ ফুট উচ্চতার পাকা প্রাচীর নির্মাণ করিয়া আমাদের চলাচলে অন্যায়ভাবে বাধা প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বর্ণিত অভিযুক্ত আসামীদেরকে উক্ত প্রাচীর সরানোর জন্য অনুরোধ করা হইলেও বর্ণিত বিবাদীগণ অদ্যাবধি উক্ত প্রাচীর আমার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে সরায় নাই এবং উক্ত প্রাচীর সরাইতে গেলে খুন-জখম করার হুমকি-ধমকি প্রদান করিতেছে। এ অবস্থায় অভিযোগটি গ্রহণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী বলেন, “অভিযোগটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত পরিকল্পিত মিথ্যাচার। সংশ্লিষ্ট সকলের মাধ্যমে আমিও ন্যায় বিচার চাই।











