ফরিদগঞ্জ ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কবরস্থানের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে প্রাণ গেল বৃদ্ধের বিয়ের দাবিতে অনশন ।। ছেলের মা-বোন ও চাচির মারধরে অচেতন অনশনকারী অবশেষে প্রতারক মমতাজ চেক জালিয়াতির মামলায় কারাগারে ফরিদগঞ্জ সাহিত্য সংসদের  উদ্যোগে পথচারীদের মাঝে ইফতার বিতরণ আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল ফরিদগঞ্জে ৪০ কার্টুন খেজুর পেল ৬৭ এতিমখানা সাংবাদিক লাঞ্ছনার তদন্তে গিয়ে অপদস্থ হলেন তদন্ত কর্মকর্তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্য আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার অভিযোগে মানববন্ধন ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে সন্তোষপুর দরবার শরীফে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল ফরিদগঞ্জে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে ধানের শীষের প্রার্থী মোঃ হারুনুর রশিদের সংবাদ সম্মেলন

বাকবিতন্ডা থামাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে মাথায় ৩ সেলাই

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৫ ২৩৭ বার পড়া হয়েছে

 

বৃদ্ধ হাসিম পাটওয়ারী বেশ সাধাসিধে প্রকৃতির মানুষ। নিজ বাড়ির প্রবেশমুখে মসজিদ নির্মাণের কার্যক্রম শুরুর থেকেই একাগ্রচিত্তে নিজ ইচ্ছেতেই মসজিদের দেখাশোনা করেন তিনি। দিনের অন্য সময় কোথাও কাজ পেলে তা করেন, নয়ত অধিকাংশ সময় কাটে আযান দেওয়া সহ মসজিদের সেবার কাজের মধ্য দিয়ে।

বৃদ্ধ বয়সী হাসিম পাটওয়ারী সরল প্রকৃতির হওয়ায়, ছোট হোক বড় হোক নিজের সকল জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখেন একান্ত যত্নে। বাঁশঝাড় থেকে পাওয়া লাঠির বোঝা নিজের প্রয়োজনে সংরক্ষণ করে রাখলেও পরে তা খুঁজে পাননি। পরে বেশ খোঁজাখুঁজির পর সেগুলোর সন্ধান মিলে। সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে এগুলো নেওয়ার বিষয়টি জিজ্ঞেস করার চেষ্টাই কাল হয় তার। বেদম মারধরের শিকার হন প্রতিবেশী খোরশেদ-জাহাঙ্গীর গোণ্ডাদের হাতে। কপালসহ মুখের ভিন্ন অংশে তীব্র আঘাতের কারণে রক্ত জমাট বাঁধে তার।

হামলার শিকার হওয়া বৃদ্ধ হাসিম পাটওয়ারী এই প্রতিবেদককে জানান, জাহাঙ্গীর-খোরশেদরা অনেক আগে থেকেই ভিন্ন সময়ে মসজিদে আযান দেওয়া থেকে শুরু করে ভিন্ন বিষয়ে আমাকে কেন্দ্র করে নানা কথা বলতো, শুধু চাইতো আমি যেন কিছু বলি বা সাড়া দেই। তাতেই তারা যেন আমার উপর হামলা করতে পারে। রোজার আগে তারা আমাকে একদিন অনেক মারধর করে।

একই বাড়ির কয়েকজন নারী জানান, হাসিম পাটওয়ারী এই বুড়ো মানুষটাকে কি মারা মারছে তারা, কত কান্না কাটি করে বলছি আর মারিছ না। তাও কারো কথা শুনে নাই।

ঘটনাপ্রবাহে বৃদ্ধ বাবার উপর এমন নাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে বিচার পাওয়ার চেষ্টা চালান হাসিম পাটওয়ারীর ছেলে নুরুল ইসলাম ও আল-আমীন। এমন প্রচেষ্টাকালেই সোমবার (৩১ মার্চ ২০২৫) ঈদের দিন রাতে বিচার প্রত্যাশার বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় খোরশেদ-জাহাঙ্গীর গোণ্ডাদের সাথে, বাকবিতন্ডা থামাতে গিয়ে খোরশেদ-জাহাঙ্গীর গোণ্ডাদের তীব্র আক্রমণের শিকার হন একই বাড়ির বাসিন্দা মমিন পাটওয়ারী। ইসলাম পাটওয়ারী, সিরাজ পাটওয়ারী গোণ্ডারা প্রচন্ডভাবে মেরে মাথা পাটিয়ে দেওয়ার কথা জানান আহত মমিন পাটওয়ারী। হামলার শিকার হওয়ার পর ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলে, আহত মমিন পাটওয়ারীর বাড়ি ঘরে ফের হামলা করে খোরশেদ আলম, জাহাঙ্গীর হোসেন, ইসলাম পাটওয়ারী, সিরাজ পাটওয়ারী, রাসেদ হোসেন, মেহেদী পাওয়ারী, বাবু হোসেন, বিল্লাল পাটওয়ারী। বসতঘরের দরজার একাংশ ভেঙ্গে ফেলা, জানালা ভাঙচুরের চেষ্টা এবং এক পর্যায়ে আহত মমিন পাটওয়ারীকে হত্যার হুমকি দেয়ার কথা জানান ভুক্তভোগী মমিন পাটওয়ারীর পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গাজীপুর বাজারস্থ পালতালুক এলাকার রমজান আলী পাটওয়ারী বাড়ীতে।

হামলার ঘটনার বিষয়ে মো. নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সঞ্জয় জানান, ঈদের দিন রাতে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। অভিযোগটির বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মো. খোরশেদ আলম পুরো ঘটনাটিকে অস্বীকার করে বলেন, তারা আমার ভাই জাহাঙ্গীরকে মেরেছে, সে এখন চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাকবিতন্ডা থামাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে মাথায় ৩ সেলাই

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৫

 

বৃদ্ধ হাসিম পাটওয়ারী বেশ সাধাসিধে প্রকৃতির মানুষ। নিজ বাড়ির প্রবেশমুখে মসজিদ নির্মাণের কার্যক্রম শুরুর থেকেই একাগ্রচিত্তে নিজ ইচ্ছেতেই মসজিদের দেখাশোনা করেন তিনি। দিনের অন্য সময় কোথাও কাজ পেলে তা করেন, নয়ত অধিকাংশ সময় কাটে আযান দেওয়া সহ মসজিদের সেবার কাজের মধ্য দিয়ে।

বৃদ্ধ বয়সী হাসিম পাটওয়ারী সরল প্রকৃতির হওয়ায়, ছোট হোক বড় হোক নিজের সকল জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখেন একান্ত যত্নে। বাঁশঝাড় থেকে পাওয়া লাঠির বোঝা নিজের প্রয়োজনে সংরক্ষণ করে রাখলেও পরে তা খুঁজে পাননি। পরে বেশ খোঁজাখুঁজির পর সেগুলোর সন্ধান মিলে। সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে এগুলো নেওয়ার বিষয়টি জিজ্ঞেস করার চেষ্টাই কাল হয় তার। বেদম মারধরের শিকার হন প্রতিবেশী খোরশেদ-জাহাঙ্গীর গোণ্ডাদের হাতে। কপালসহ মুখের ভিন্ন অংশে তীব্র আঘাতের কারণে রক্ত জমাট বাঁধে তার।

হামলার শিকার হওয়া বৃদ্ধ হাসিম পাটওয়ারী এই প্রতিবেদককে জানান, জাহাঙ্গীর-খোরশেদরা অনেক আগে থেকেই ভিন্ন সময়ে মসজিদে আযান দেওয়া থেকে শুরু করে ভিন্ন বিষয়ে আমাকে কেন্দ্র করে নানা কথা বলতো, শুধু চাইতো আমি যেন কিছু বলি বা সাড়া দেই। তাতেই তারা যেন আমার উপর হামলা করতে পারে। রোজার আগে তারা আমাকে একদিন অনেক মারধর করে।

একই বাড়ির কয়েকজন নারী জানান, হাসিম পাটওয়ারী এই বুড়ো মানুষটাকে কি মারা মারছে তারা, কত কান্না কাটি করে বলছি আর মারিছ না। তাও কারো কথা শুনে নাই।

ঘটনাপ্রবাহে বৃদ্ধ বাবার উপর এমন নাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে বিচার পাওয়ার চেষ্টা চালান হাসিম পাটওয়ারীর ছেলে নুরুল ইসলাম ও আল-আমীন। এমন প্রচেষ্টাকালেই সোমবার (৩১ মার্চ ২০২৫) ঈদের দিন রাতে বিচার প্রত্যাশার বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় খোরশেদ-জাহাঙ্গীর গোণ্ডাদের সাথে, বাকবিতন্ডা থামাতে গিয়ে খোরশেদ-জাহাঙ্গীর গোণ্ডাদের তীব্র আক্রমণের শিকার হন একই বাড়ির বাসিন্দা মমিন পাটওয়ারী। ইসলাম পাটওয়ারী, সিরাজ পাটওয়ারী গোণ্ডারা প্রচন্ডভাবে মেরে মাথা পাটিয়ে দেওয়ার কথা জানান আহত মমিন পাটওয়ারী। হামলার শিকার হওয়ার পর ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলে, আহত মমিন পাটওয়ারীর বাড়ি ঘরে ফের হামলা করে খোরশেদ আলম, জাহাঙ্গীর হোসেন, ইসলাম পাটওয়ারী, সিরাজ পাটওয়ারী, রাসেদ হোসেন, মেহেদী পাওয়ারী, বাবু হোসেন, বিল্লাল পাটওয়ারী। বসতঘরের দরজার একাংশ ভেঙ্গে ফেলা, জানালা ভাঙচুরের চেষ্টা এবং এক পর্যায়ে আহত মমিন পাটওয়ারীকে হত্যার হুমকি দেয়ার কথা জানান ভুক্তভোগী মমিন পাটওয়ারীর পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গাজীপুর বাজারস্থ পালতালুক এলাকার রমজান আলী পাটওয়ারী বাড়ীতে।

হামলার ঘটনার বিষয়ে মো. নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সঞ্জয় জানান, ঈদের দিন রাতে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। অভিযোগটির বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মো. খোরশেদ আলম পুরো ঘটনাটিকে অস্বীকার করে বলেন, তারা আমার ভাই জাহাঙ্গীরকে মেরেছে, সে এখন চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছে।