ফরিদগঞ্জ ০৪:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কবরস্থানের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে প্রাণ গেল বৃদ্ধের বিয়ের দাবিতে অনশন ।। ছেলের মা-বোন ও চাচির মারধরে অচেতন অনশনকারী অবশেষে প্রতারক মমতাজ চেক জালিয়াতির মামলায় কারাগারে ফরিদগঞ্জ সাহিত্য সংসদের  উদ্যোগে পথচারীদের মাঝে ইফতার বিতরণ আইডিয়াল সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল ফরিদগঞ্জে ৪০ কার্টুন খেজুর পেল ৬৭ এতিমখানা সাংবাদিক লাঞ্ছনার তদন্তে গিয়ে অপদস্থ হলেন তদন্ত কর্মকর্তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্য আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার অভিযোগে মানববন্ধন ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে সন্তোষপুর দরবার শরীফে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল ফরিদগঞ্জে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে ধানের শীষের প্রার্থী মোঃ হারুনুর রশিদের সংবাদ সম্মেলন

সাংবাদিক লাঞ্ছনার তদন্তে গিয়ে অপদস্থ হলেন তদন্ত কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ২১৮ বার পড়া হয়েছে

ফরিদগঞ্জে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনার তদন্তে গিয়ে অপদস্থ হয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল। ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার কলেজে মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের তথ্য পেয়ে গত ৩ মার্চ মঙ্গলবার গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সংবাদ সংগ্রহে যান দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার ফরিদগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা শাকিল হাসান এবং মোহনা টেলিভিশনের চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি মো. ফাহাদ। সংবাদ সংগ্রহকালে কলেজে দায়িত্বরত শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া সাংবাদিক শাকিল হাসানের মোবাইল ফোন ছুঁড়ে মারেন। তার আচরণের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে একপর্যায়ে তিনি তাঁকে প্রাণ নাশের হুমকি। এ বিষয়ে কলেজ সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়াকে লিখিতভাবে অবহিত করলে তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামালকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্ত কর্মকর্তা গত ৯ মার্চ তদন্তের দিন ধার্য করেন এবং তদন্তের জন্য কলেজে উপস্থিত হন। কিন্ত তদন্ত কর্মকর্তার পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে তিনি তদন্তে অনুপস্থিত থাকেন। ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার পুনরায় তদন্তের তারিখ ধার্য করা হয়। নির্ধারিত সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং অভিযোগকারী তদন্তস্থলে উপস্থিত হন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে গেলে কলেজের স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অভিযুক্ত মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া তাঁকে লাঞ্ছিত করেন। মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডিসি পদমর্যাদার অধিকারী। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হলে সমমর্যাদার অধিকারী হতে হবে।” এ সময় তিনি তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিলে মানহানি মামলার হুমকি দেন। তদন্তে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে লিখিত বক্তব্য জানতে চাইলে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া কলেজ প্যাডে লিখিত বক্তব্য দিয়ে তদন্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “আমি বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে অবহিত হয়েছি। শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বিষয়টি তদন্ত করতে পারেন। যেহেতু মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া তদন্তে অসহযোগিতা করেছেন, আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকতাদের কাছে প্রতিবেদন প্রেরণ করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাংবাদিক লাঞ্ছনার তদন্তে গিয়ে অপদস্থ হলেন তদন্ত কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ফরিদগঞ্জে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনার তদন্তে গিয়ে অপদস্থ হয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল। ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার কলেজে মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের তথ্য পেয়ে গত ৩ মার্চ মঙ্গলবার গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সংবাদ সংগ্রহে যান দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার ফরিদগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা শাকিল হাসান এবং মোহনা টেলিভিশনের চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি মো. ফাহাদ। সংবাদ সংগ্রহকালে কলেজে দায়িত্বরত শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া সাংবাদিক শাকিল হাসানের মোবাইল ফোন ছুঁড়ে মারেন। তার আচরণের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে একপর্যায়ে তিনি তাঁকে প্রাণ নাশের হুমকি। এ বিষয়ে কলেজ সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়াকে লিখিতভাবে অবহিত করলে তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামালকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্ত কর্মকর্তা গত ৯ মার্চ তদন্তের দিন ধার্য করেন এবং তদন্তের জন্য কলেজে উপস্থিত হন। কিন্ত তদন্ত কর্মকর্তার পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে তিনি তদন্তে অনুপস্থিত থাকেন। ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার পুনরায় তদন্তের তারিখ ধার্য করা হয়। নির্ধারিত সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং অভিযোগকারী তদন্তস্থলে উপস্থিত হন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে গেলে কলেজের স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অভিযুক্ত মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া তাঁকে লাঞ্ছিত করেন। মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডিসি পদমর্যাদার অধিকারী। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হলে সমমর্যাদার অধিকারী হতে হবে।” এ সময় তিনি তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিলে মানহানি মামলার হুমকি দেন। তদন্তে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে লিখিত বক্তব্য জানতে চাইলে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া কলেজ প্যাডে লিখিত বক্তব্য দিয়ে তদন্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “আমি বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে অবহিত হয়েছি। শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বিষয়টি তদন্ত করতে পারেন। যেহেতু মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া তদন্তে অসহযোগিতা করেছেন, আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকতাদের কাছে প্রতিবেদন প্রেরণ করবো।