বিয়ের দাবিতে অনশন ।। ছেলের মা-বোন ও চাচির মারধরে অচেতন অনশনকারী
- আপডেট সময় : ০৪:৫২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ ৯০ বার পড়া হয়েছে

ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নে বিয়ের দাবিতে এক বিধবা নারীর অনশনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনশনরত ওই নারীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের সদস্যরা।
জানা যায়, উপজেলার ১৫ নম্বর রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী বাড়ির শরিফের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন লাকি বেগম নামের এক বিধবা নারী।
অনশনকারী লাকি বেগম জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর শরিফ তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই সম্পর্কে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শরিফ তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লাকির দাবি, বিদেশে যাওয়ার আগে শরিফ তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেন, যা তিনি নিজের গহনা বিক্রি করে জোগাড় করেছিলেন। বিদেশে থাকাকালীন সময়েও শরিফ নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং দেশে ফিরে তাকে ও তার দুই সন্তানকে মেনে নিয়ে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।
সম্প্রতি দেশে ফিরে শরিফ তাকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে নিয়ে গেলেও হঠাৎ করে অন্যত্র বিয়ের চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ লাকির। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও শরিফ কোনো উদ্যোগ নেননি। এরই প্রেক্ষিতে সোমবার সকালে শরিফের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন লাকি। তবে অভিযোগ উঠেছে, এসময় শরিফের মা, বোন ও পরিবারের অপর এক নারী তাকে মারধর করেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শরিফের মা। তিনি বলেন, আমার ছেলে বিয়ে করলে করুক, এতে আমাদের কিছু বলার নেই। আমার স্বামীর সম্পত্তি আমার নামে, তাই আমার ঘরে কাউকে উঠতে দেবো না। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা জানান, কয়েকদিন আগে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হয়েছিল এবং ঈদের পর সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন শরিফ। কিন্তু পরে তিনি আর যোগাযোগ করেননি।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, এটি শুধুমাত্র পারিবারিক মীমাংসার বিষয় নয়, বরং এতে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে, যা আইনি তদন্তের দাবি রাখে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ফরিদগঞ্জ থানার এএসআই রাশেদ মিত্র জানান, থানার ওসির সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ২৫ মার্চ থানায় বসে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং আপাতত অভিযোগকারী নারীকে তার বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।











