ঘর পুড়ে ছাই, শিশুসন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস
- আপডেট সময় : ১০:৩৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

জীবিকার তাগিদে প্রায় বছরখানেক আগে প্রবাসে পাড়ি দেওয়া স্বামী মো. রিয়াদ হোসেন অবৈধভাবে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। ধারদেনা করে অবুঝ সন্তানদের নিয়ে বসবাসের জন্য ছোট একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দুই সন্তানের জননী পপি বেগম বসবাস শুরু করেন। একই সঙ্গে পরিবারের বড় মেয়ে ৭ বছরের ফাতেমা আক্তার স্কুলে যাওয়া শুরু করে। সীমিত আয়ে হলেও পরিবারটির জীবনসংসার ভালোই চলছিল।
প্রতিদিনের মতো সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। রাত ১টার দিকে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে সবার ঘুম ভেঙে যায়। আগুনের লেলিহান শিখায় টিকে থাকতে না পেরে পরনের কাপড় নিয়ে সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও কিছুই রক্ষা করা যায়নি। সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধানুয়া গ্রামের খাসের বাড়িতে।
হাউমাউ করে কেঁদে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পপি বেগম বলেন, আমার ৭ বছরের মেয়ে ফাতেমা ও ৩ বছরের ফারাজ খানকে নিয়ে সোমবার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। রাত ১টার দিকে আগুনের তীব্র তাপে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে উঠে সন্তানদের নিয়ে ডাকচিৎকার করে একখণ্ড কাপড়ে বেরিয়ে পড়ি। স্থানীয়রা এবং খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নেভালেও কিছুই রক্ষা করা যায়নি। আমি নিঃস্ব হয়ে শিশু সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না। আমার স্বামী সৌদি প্রবাসে থাকলেও অবৈধভাবে অবস্থান করার কারণে রুটি-রুজি করতে পারেন না। আমরা এখন কী খাব, শিশু সন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকব, ভেবে পাচ্ছি না।
ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. কামরুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও কিছুই রক্ষা করা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, এই পরিবারটি একেবারেই দরিদ্র। আগুনে বসতঘর পুড়ে যাওয়ায় এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস ছাড়া তাদের আর কোনো পথ খোলা নেই। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের কিছুটা সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ করছি, এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে আপাতত শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। তাদের পক্ষ থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















