ফরিদগঞ্জ ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৩৬ দলের অংশগ্রহণে ফরিদগঞ্জে বিতর্ক উৎসব শুরু ফরিদগঞ্জে ডাকবাংলা খেয়াঘাটে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ, নীরব দূষণে বিপন্ন ডাকাতিয়ার পাড় ২ বছরেও শেষ হয়নি ফরিদগঞ্জ-কালীরবাজার সড়ক ফরিদগঞ্জে কৃষিজমি ধ্বংস করে অবৈধ ড্রেজার পরিচালনা, প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে অভিযোগের পাহাড় ফরিদগঞ্জে জরুরি বিভাগ চিকিৎসা নিতে ডিমান্ড করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ।। ভিডিও ভাইরাল ফরিদগঞ্জে নানা আয়োজনে হাদিয়া ফাউন্ডেশনের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন এক জমি দুইবার রেজিস্ট্রি ফরিদগঞ্জে খেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন চাকরি ফেরানোর স্বপ্নে প্রধান শিক্ষকে দেড় লাখ টাকা ঘুষ

ফরিদগঞ্জে ডাকবাংলা খেয়াঘাটে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ, নীরব দূষণে বিপন্ন ডাকাতিয়ার পাড়

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

একসময় ডাকাতিয়া নদীর বুক চিরে লঞ্চ, বালুবাহী ট্রলার, নৌকাসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযানের ব্যস্ত চলাচল ছিল। নদীর তীরের ডাকবাংলা খেয়াঘাটও ছিল সরগরম। কালের বিবর্তনে নৌযানের সেই ব্যস্ততা অনেকটাই হারিয়ে গেলেও ফরিদগঞ্জের ভাটিয়ালপুর গ্রামের একাংশের মানুষের কাছে ছোট্ট খেয়া নৌকাটি এখনো যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নদীপথে যাতায়াতের পাশাপাশি বিকেলে নদীর পাড়ে বসে অবসর সময় কাটাতে স্থানীয়দের অনেকেই ছুটে আসেন ডাকবাংলা খেয়াঘাট এলাকায়। কিন্তু ঘাটের পাশেই গড়ে উঠেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এতে নদীর পাড়ের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও এখানে আসা মানুষজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা এনে ঘাটের পাশে ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব ময়লা অপসারণ না করায় সেখানে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের আবর্জনার স্তূপ। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে নদীর পাড়ে বসে স্বস্তির সময় কাটানোর পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।
ডাকবাংলা খেয়াঘাটের আশপাশে রয়েছে ফরিদগঞ্জ থানা, খাদ্যগুদাম, উপজেলা ও পৌর ভূমি অফিস এবং সরকারি ডাকবাংলা। এসব সরকারি দপ্তরে প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে আসেন সেবাগ্রহীতারা। কাজ শেষে অনেকে কিছুটা সময় নদীর পাড়ে কাটাতে ঘাট এলাকায় আসেন। স্থানীয়দের মতে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকলে জায়গাটি ফরিদগঞ্জের অন্যতম সুন্দর অবসর সময় কাটানোর স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আমরা প্রায়ই এখানে অবসর সময় নদীর পাড়ে বসে কাটাই। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধের কারণে এখন স্বস্তিতে বসার উপায় নেই। বরং এই দুর্গন্ধে আমাদের আরও অসুস্থ লাগছে।
স্থানীয় চায়ের দোকানদার ও একসময় খেয়া পারাপারের মাঝি জাহাঙ্গির বলেন, আগে এই ঘাটটি অনেক জমজমাট ছিল। এখনো মানুষ নদীর পাড়ে একটু ঘুরতে আসে। কিন্তু ময়লা-আবর্জনায় পুরো পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। ঘাটটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হলে এখানে মানুষের আনাগোনা আরও বাড়ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বাজারের ময়লা এবং বিভিন্ন বাসাবাড়ির আবর্জনা এনে ঘাটের পাশে ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, একসময় এই এলাকায় মানুষের নিয়মিত আনাগোনা থাকলেও ময়লার কারণে এখন নদীর পাড়ে বসার পরিবেশও নেই।তারা আরো বলেন, নিয়মিত ময়লা অপসারণ, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা এবং ঘাটের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলে জায়গাটির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মেহেদী হাসান মানিক জানান, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফরিদগঞ্জে ডাকবাংলা খেয়াঘাটে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ, নীরব দূষণে বিপন্ন ডাকাতিয়ার পাড়

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

একসময় ডাকাতিয়া নদীর বুক চিরে লঞ্চ, বালুবাহী ট্রলার, নৌকাসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযানের ব্যস্ত চলাচল ছিল। নদীর তীরের ডাকবাংলা খেয়াঘাটও ছিল সরগরম। কালের বিবর্তনে নৌযানের সেই ব্যস্ততা অনেকটাই হারিয়ে গেলেও ফরিদগঞ্জের ভাটিয়ালপুর গ্রামের একাংশের মানুষের কাছে ছোট্ট খেয়া নৌকাটি এখনো যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নদীপথে যাতায়াতের পাশাপাশি বিকেলে নদীর পাড়ে বসে অবসর সময় কাটাতে স্থানীয়দের অনেকেই ছুটে আসেন ডাকবাংলা খেয়াঘাট এলাকায়। কিন্তু ঘাটের পাশেই গড়ে উঠেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এতে নদীর পাড়ের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও এখানে আসা মানুষজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা এনে ঘাটের পাশে ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব ময়লা অপসারণ না করায় সেখানে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের আবর্জনার স্তূপ। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে নদীর পাড়ে বসে স্বস্তির সময় কাটানোর পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।
ডাকবাংলা খেয়াঘাটের আশপাশে রয়েছে ফরিদগঞ্জ থানা, খাদ্যগুদাম, উপজেলা ও পৌর ভূমি অফিস এবং সরকারি ডাকবাংলা। এসব সরকারি দপ্তরে প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে আসেন সেবাগ্রহীতারা। কাজ শেষে অনেকে কিছুটা সময় নদীর পাড়ে কাটাতে ঘাট এলাকায় আসেন। স্থানীয়দের মতে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকলে জায়গাটি ফরিদগঞ্জের অন্যতম সুন্দর অবসর সময় কাটানোর স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আমরা প্রায়ই এখানে অবসর সময় নদীর পাড়ে বসে কাটাই। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধের কারণে এখন স্বস্তিতে বসার উপায় নেই। বরং এই দুর্গন্ধে আমাদের আরও অসুস্থ লাগছে।
স্থানীয় চায়ের দোকানদার ও একসময় খেয়া পারাপারের মাঝি জাহাঙ্গির বলেন, আগে এই ঘাটটি অনেক জমজমাট ছিল। এখনো মানুষ নদীর পাড়ে একটু ঘুরতে আসে। কিন্তু ময়লা-আবর্জনায় পুরো পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। ঘাটটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হলে এখানে মানুষের আনাগোনা আরও বাড়ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বাজারের ময়লা এবং বিভিন্ন বাসাবাড়ির আবর্জনা এনে ঘাটের পাশে ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, একসময় এই এলাকায় মানুষের নিয়মিত আনাগোনা থাকলেও ময়লার কারণে এখন নদীর পাড়ে বসার পরিবেশও নেই।তারা আরো বলেন, নিয়মিত ময়লা অপসারণ, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা এবং ঘাটের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলে জায়গাটির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মেহেদী হাসান মানিক জানান, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।