ফরিদগঞ্জে নকল প্রসাধনীর দখলে বাজার, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে জনগণ
- আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

প্যাকেট, টিউব, রঙ সবই আসলের মতো। কিন্তু ভেতরের পণ্যটি নকল ও মানহীন। শীত আসন্ন হওয়ায় বাজারে ইতিমধ্যে শীতের প্রসাধনী সামগ্রী আসতে শুরু করেছে, এরই মধ্যে নকল প্রসাধনীও বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারের কসমেটিক দোকানে এসব নকল ও ভেজাল প্রসাধনী বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় বিপণিবিতান সবখানেই আসল-নকল মিলেমিশে একাকার। এতে ক্রেতার আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম স্বাস্থঝুঁকি রয়েছে।
জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ বাজারের ভান্ডারী মহল, মধ্যবাজারের তালুকদার প্লাজা, লাকী প্লাজা, রূপসা বাজার, গৃদকালিন্দিয়া বাজারসহ পার্শ্ববর্তী হাট-বাজারগুলোর খুচরা কসমেটিক দোকানে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। কিছু পণ্যের মোড়কের গায়ে বিএসটিআই, মেয়াদ, উৎপাদন তারিখ, ব্যাচ নম্বর ও খুচরা মূল্য যথারীতি লেখা থাকলেও দেখে আসল না নকল তা বোঝার উপায় নেই। বাজারে নানা নামের দেশি-বিদেশি প্রসাধনীর ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। বেশি লাভের আশায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ক্রেতাদের ঠকিয়ে এসব নকল প্রসাধনী বিক্রি করে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রসাধনী দোকানদার জানান, তারা সরাসরি কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বিভিন্ন নামের প্রসাধনী কিনে বিক্রি করেন। এসব প্রসাধনীর মধ্যে রয়েছে হেড অ্যান্ড শোল্ডার, সানসিল্ক, প্যান্টিন, গার্নিয়ার শ্যাম্পু, গার্নিয়ার, ডাভ, নিভিয়া, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি, মেরিল ক্রিম, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ও লোশন। তাদের ভাষ্য, কোম্পানির মাধ্যমে সরবরাহ হওয়ায় নকল কি না তা বোঝার সুযোগ থাকে না।
তারা আরও জানান, নকল বেশি হয় ফর্সাকারী ক্রিমে। বিভিন্ন নতুন কোম্পানি এসব ক্রিম বাজারে ছাড়ে, বিশেষ করে এসব নকল প্রসাধনী গ্রামের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে কিনে গ্রামের মহিলারা এসব ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার করেন। এসব পণ্য বিক্রিতে লাভ বেশি হওয়ায় দোকানদাররা বিক্রি করেন, কিন্তু ভোক্তার কী হচ্ছে, তা তারা দেখছেন না।
এদিকে ত্বক বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা বলছেন, ভেজাল প্রসাধনী ব্যবহার ত্বকের জন্য বিপজ্জনক। এতে ত্বকে ঘা-সহ নানা জটিল রোগ হতে পারে, এমনকি ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও থাকে।
উপজেলার পূর্ব বড়ালী গ্রামের গৃহবধূ শাহীন বেগম জানান, মোড়কের গায়ে হিন্দিতে লেখা ত্বক ফরসা করার ক্রিম ব্যবহার করে তিনি ত্বকের সমস্যায় পড়েন এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। এমন ঘটনার শিকার অনেকেই হচ্ছেন।
কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, আমি ফরিদগঞ্জ বাজারের একটি দোকান থেকে ফর্সাকারী ক্রিম ও লোশন কিনে আমার ছোট বোনসহ পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করেছি। আমাদের সকলের চুককানি এলার্জি দেখা দিয়েছে। আগে আমাদের এইসব রোগ ছিলনা।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালে চর্ম ও অ্যালার্জিজনিত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। অনেক রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রসাধনী ব্যবহারের ফলেই এমনটি হয়েছে। নকল প্রসাধনী ত্বকে বা শরীরে ব্যবহার করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়। তাই প্রসাধনী ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিছুর রহমান বলেন, তিনি সদ্য এ উপজেলায় যোগদান করেছি। উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রসাধনীসহ অনিয়মকারী সকল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করবো।















