ফরিদগঞ্জ ০৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদগঞ্জে কসমিক এয়ারের ফ্রি সেমিনার ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জের গৃহবধূ মিশু হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন ফরিদগঞ্জে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩, ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ফরিদগঞ্জে ২য় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় লম্পট অটোরিকশা চালক গ্রেপ্তার, আদালতে জবানবন্দি জে কে ফিলিং স্টেশনের মুচলেকা ও লাখ টাকা জরিমানা ফরিদগঞ্জে কাছিয়াড়া ফুটসেল ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে ফরিদগঞ্জে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল চট্টগ্রামে সংবর্ধনা গ্রহণ করলেন ফরিদগঞ্জ কে আর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাসুম আলম তালুকদার ৩৫ দিনেও তদন্ত প্রতিবেদন হয়নি ৩৫ বছরের সংসার, তবু স্বামীর কাছে ‘অচেনা’ আফিয়া

মেম্বারের অর্থ জালিয়াতি ফাঁস করলেন ভুক্তভোগীরা

শামীম হাসান
  • আপডেট সময় : ০৭:২৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৪৩৮ বার পড়া হয়েছে

 

ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন মসু’র বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম ও অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। বিধবা ভাতার কার্ড, বিজিডি কার্ড, টিউবওয়েল কিংবা টয়লেট প্রকল্প—যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই টাকার বিনিময়ে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বিধবা কার্ড পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে চার হাজার টাকা নিয়েছেন দরিদ্র নারী কোহিনুর বেগমের কাছ থেকে। কিন্তু কার্ড দেননি, উল্টো টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দেন—একথা যেন কাউকে বলা না হয়। একইভাবে বিজিডি কার্ডের নামে তিন হাজার টাকা হাতিয়েছেন হতদরিদ্র উজ্জ্বল গাজীর কাছ থেকেও।
শৌচাগার নির্মাণ প্রকল্পের নামেও চলছে টাকা আত্মসাৎ। আক্কাস রাড়ির স্ত্রী সাহিদা বেগম অভিযোগ করেন, “টয়লেটের নামে আড়াই হাজার টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু টয়লেট দেননি। বরং অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন।” একই অভিযোগ করেছেন সুফিয়া, খাদিজা ও আঁখি বেগমও।
অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। বিধবা নারী রানু বেগম জানিয়েছেন, টিউবওয়েল দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ইউপি সদস্য তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোনো টিউবওয়েল পাননি। এছাড়া আলী হোসেনের স্ত্রীর কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা ও ন্যায্য মূল্যের চালের কার্ড নিয়ে ফেরত দেননি বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবন্ধি কার্ডের জন্য টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন মসু কে টাকা দেয়ার বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন মানুষ বিভিন্ন কাজে খুশি হয়ে দেয় আর কি। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে   তিনি বলেন একটি মহল আমার বিরূদ্ধে সড়যন্ত্র করে এগুলো করছে। অভিযোগ করা সকলেই কি মিথ্যা বলছে এমন প্রশ্ন কোন উত্তর দেননি তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের সেবা করার পরিবর্তে তিনি বিভিন্ন ভাতা ও প্রকল্পকে হাতিয়ার বানিয়ে অসহায়দের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করছেন। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মেম্বারের অর্থ জালিয়াতি ফাঁস করলেন ভুক্তভোগীরা

আপডেট সময় : ০৭:২৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন মসু’র বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম ও অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। বিধবা ভাতার কার্ড, বিজিডি কার্ড, টিউবওয়েল কিংবা টয়লেট প্রকল্প—যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই টাকার বিনিময়ে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বিধবা কার্ড পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে চার হাজার টাকা নিয়েছেন দরিদ্র নারী কোহিনুর বেগমের কাছ থেকে। কিন্তু কার্ড দেননি, উল্টো টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দেন—একথা যেন কাউকে বলা না হয়। একইভাবে বিজিডি কার্ডের নামে তিন হাজার টাকা হাতিয়েছেন হতদরিদ্র উজ্জ্বল গাজীর কাছ থেকেও।
শৌচাগার নির্মাণ প্রকল্পের নামেও চলছে টাকা আত্মসাৎ। আক্কাস রাড়ির স্ত্রী সাহিদা বেগম অভিযোগ করেন, “টয়লেটের নামে আড়াই হাজার টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু টয়লেট দেননি। বরং অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন।” একই অভিযোগ করেছেন সুফিয়া, খাদিজা ও আঁখি বেগমও।
অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। বিধবা নারী রানু বেগম জানিয়েছেন, টিউবওয়েল দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ইউপি সদস্য তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোনো টিউবওয়েল পাননি। এছাড়া আলী হোসেনের স্ত্রীর কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা ও ন্যায্য মূল্যের চালের কার্ড নিয়ে ফেরত দেননি বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবন্ধি কার্ডের জন্য টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন মসু কে টাকা দেয়ার বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন মানুষ বিভিন্ন কাজে খুশি হয়ে দেয় আর কি। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে   তিনি বলেন একটি মহল আমার বিরূদ্ধে সড়যন্ত্র করে এগুলো করছে। অভিযোগ করা সকলেই কি মিথ্যা বলছে এমন প্রশ্ন কোন উত্তর দেননি তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের সেবা করার পরিবর্তে তিনি বিভিন্ন ভাতা ও প্রকল্পকে হাতিয়ার বানিয়ে অসহায়দের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করছেন। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।