সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদগঞ্জে মধ্যরাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি
শামীম হাসান
- আপডেট সময় : ১২:২১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ৬৩২ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে একই রাতে দুই বসতঘরে হাত-পা বেঁধে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৩ নভেম্বর ২০২৫) দিবাগত রাতে উপজেলার ৫নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ভোটাল গ্রামের খালপাড়ের মিজি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এতে পরিবারের দুই সদস্য গুরুতর আহত হন এবং প্রায় সাড়ে চার ভরি স্বর্ণালংকারসহ নগদ ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা লুট করে ডাকাতরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত প্রায় ৩টার দিকে মুখোশধারী ৬–৭ জন ডাকাত ঘরে ঢুকে সবাইকে হাতে–পায়ে বেঁধে ফেলে। এসময় ডাকাতরা ধারালো অস্ত্রের মুখে গলার, কানের ও হাতের স্বর্ণালংকারসহ ঘরে থাকা নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়।
ডাকাতদের হামলায় গুরুতর আহত রহমত মিজি (৩০) কে ভোররাতে রক্তাক্ত অবস্থায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। আহতদের মধ্যে রিমু আক্তার (২৩)–এর হাত ও পাজরের বিভিন্ন অংশেও আঘাত রয়েছে।
রহমত মিজির মা ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মুখোশ পরা ডাকাতরা ঘরে ঢুকে আমাদের বেঁধে ফেলে। আমার মেয়ে আর ছেলের বউয়ের স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যায়। সেজো ছেলে রহমত ঘটনাটি টের পেয়ে এগিয়ে আসতেই তার মাথা ও পিঠে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
রিমু আক্তার বলেন, ডাকাতরা রুমে ঢুকেই প্রথমে হাত–পা বেঁধে ফেলে। মোবাইল নিয়ে নেওয়ার পর অস্ত্র ঠেকিয়ে আমার গলার, কানের ও হাতের সব স্বর্ণালংকার খুলে নেয়। আলমারির টাকাও লুট করে। সামান্য শব্দ করলেও মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
এসময় ঘরে থাকা পরিবারের আরেক সদস্য মুক্তা জানান, আমার ছোট বাচ্চাটি কান্না করলে ডাকাতরা হুমকি দেয়—কান্না থামাতে না পারলে আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে। আমি প্রাণ ভয়ে বাচ্চাকে চুপ করানোর চেষ্টা করি। তারা আমার রুমও তছনছ করে স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন,
এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। অপরাধীরা যেন দ্রুত আইনের আওতায় আসে সেই দাবি জানাই।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহ্ আলম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।











