ফরিদগঞ্জ ০২:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হত্যার হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় স্কাউট কর্মকর্তা।। জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ ফরিদগঞ্জে যুবলীগ নেতা বাবু গ্রেফতার ফরিদগঞ্জে তিন যুবদল হত্যায় বিচারহীনতার ক্ষোভ সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমানের জানাজা আজ দুপুর ২টায় বালিথুবা আবদুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লাউতলি শাহ আলম মডেল নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভা মাতৃছায়া কিন্ডারগার্টেন ফরিদগঞ্জে সাংস্কৃতিক, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা, মা সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ সাবেক এমপি সাংবাদিক শফিকুর রহমান আর বেঁচে নেই দক্ষিণ রূপসা ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জে  আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে বিল্ডিং নির্মাণ কাজ ফরিদগঞ্জে অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা ৩ শতাধিক রোগী পেলেন বিনা মূল্যের সেবা

ফরিদগঞ্জে তিন যুবদল হত্যায় বিচারহীনতার ক্ষোভ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:১০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
২৫শে অক্টোবর ২০১৩ সালের এই দিনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে দেশব্যাপী ১৮ দলীয় জোটের ডাকা বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে চালানো গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের তিন যুবদল নেতা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ একযুগ পেরিয়ে গেলেও স্বজনরা আজও কোনো বিচার পাননি। উল্টো বিগত সরকারের সময়ে নানা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার জালে জর্জরিত হতে হয়েছে শোকাহত পরিবার ও  বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৫শে অক্টোবর বিকেলে ১৮ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা একযোগে অতর্কিত হামলা চালায়।
তৎকালীন ফরিদগঞ্জ থানার ওসি নাজমুল হকের দেওয়া বিবরণী অনুযায়ী, সেই মিছিলে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২৪২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, ২৯ রাউন্ড চায়না পিস্তলের গুলি এবং ১১ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ও দলীয় ক্যাডারদের ওই নির্বিচারে গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন যুবদলের তিন সাহসী কর্মী জাহাঙ্গীর বেপারী, আরিফ হোসেন ও বাবুল ভূঁইয়া।
সে সময় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার চেষ্টা করা হলেও তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আক্রোশ ও পাল্টা মিথ্যা মামলার কারণে ভুক্তভোগীদের করা মামলার কোনো আইনি অস্তিত্ব টিকতে দেওয়া হয়নি। বরং উল্টো নিহত ও আহত নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে তাদের ঘরছাড়া ও সর্বস্বান্ত করা হয়। দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে চরম নিগ্রহ ও নীরব যন্ত্রণা সহ্য করার পর গত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন করে ন্যায়বিচারের আশায় বুক বেঁধেছিলেন স্বজনরা। এরই ধারাবাহিকতায় নিহত আরিফ হোসেনের ভাই দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৮ই ডিসেম্বর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই মামলার বাদী দেলোয়ার হোসেনও এ বছরের গত ২১শে অক্টোবর আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে দীর্ঘ একযুগ পেরিয়ে গেলেও শহীদ পরিবারের সদস্যরা কোনো ন্যায়বিচার বা আইনি প্রতিকার না পাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সময়েও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে কার্যকর কোনো সাংগঠনিক ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
শহীদরা হলেন-উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব গাজীপুর তিনকড়ি বেপারী বাড়ির আব্দুল মতিন বেপারীর ছোট ছেলে যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর বেপারী, রূপসা উত্তর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে আরিফ হোসেন এবং একই ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে বাবুল ভূঁইয়া।
পরিবারের দীর্ঘশ্বাস আর বঞ্চনার ইতিহাস মুছে ফেলে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফরিদগঞ্জে তিন যুবদল হত্যায় বিচারহীনতার ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৭:১০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
২৫শে অক্টোবর ২০১৩ সালের এই দিনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে দেশব্যাপী ১৮ দলীয় জোটের ডাকা বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে চালানো গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের তিন যুবদল নেতা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ একযুগ পেরিয়ে গেলেও স্বজনরা আজও কোনো বিচার পাননি। উল্টো বিগত সরকারের সময়ে নানা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার জালে জর্জরিত হতে হয়েছে শোকাহত পরিবার ও  বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৫শে অক্টোবর বিকেলে ১৮ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা একযোগে অতর্কিত হামলা চালায়।
তৎকালীন ফরিদগঞ্জ থানার ওসি নাজমুল হকের দেওয়া বিবরণী অনুযায়ী, সেই মিছিলে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২৪২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, ২৯ রাউন্ড চায়না পিস্তলের গুলি এবং ১১ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ও দলীয় ক্যাডারদের ওই নির্বিচারে গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন যুবদলের তিন সাহসী কর্মী জাহাঙ্গীর বেপারী, আরিফ হোসেন ও বাবুল ভূঁইয়া।
সে সময় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার চেষ্টা করা হলেও তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আক্রোশ ও পাল্টা মিথ্যা মামলার কারণে ভুক্তভোগীদের করা মামলার কোনো আইনি অস্তিত্ব টিকতে দেওয়া হয়নি। বরং উল্টো নিহত ও আহত নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে তাদের ঘরছাড়া ও সর্বস্বান্ত করা হয়। দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে চরম নিগ্রহ ও নীরব যন্ত্রণা সহ্য করার পর গত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন করে ন্যায়বিচারের আশায় বুক বেঁধেছিলেন স্বজনরা। এরই ধারাবাহিকতায় নিহত আরিফ হোসেনের ভাই দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৮ই ডিসেম্বর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই মামলার বাদী দেলোয়ার হোসেনও এ বছরের গত ২১শে অক্টোবর আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে দীর্ঘ একযুগ পেরিয়ে গেলেও শহীদ পরিবারের সদস্যরা কোনো ন্যায়বিচার বা আইনি প্রতিকার না পাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সময়েও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে কার্যকর কোনো সাংগঠনিক ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
শহীদরা হলেন-উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব গাজীপুর তিনকড়ি বেপারী বাড়ির আব্দুল মতিন বেপারীর ছোট ছেলে যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর বেপারী, রূপসা উত্তর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে আরিফ হোসেন এবং একই ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে বাবুল ভূঁইয়া।
পরিবারের দীর্ঘশ্বাস আর বঞ্চনার ইতিহাস মুছে ফেলে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।