ফরিদগঞ্জ ১১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদগঞ্জে টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের আত্মপ্রকাশ এক সপ্তাহে ২০ চুরি, আতঙ্কে ফরিদগঞ্জবাসী ফরিদগঞ্জে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এর মধ্যস্থতায় পাউবির খাছ বিক্রি! থানায় অভিযোগ গাব্দেরগাঁও গ্রামে আদালতের রায়ের পরও মিলছে না জমির দখল ফরিদগঞ্জে তিনদিন ব্যাপি পিআইবি’র প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন ফরিদগঞ্জে সরকারি সম্পত্তি দখল করে ভবণ নির্মাণের অভিযোগ ১২ বছর পালিয়েও চাকরি বহাল! ফরিদগঞ্জে মাদ্রাসা সুপারের নজিরবিহীন জালিয়াতি ফাঁকা ঘরই ছিল টার্গেট।। দক্ষিণ শাশিয়ালীতে প্রবাসীর কষ্টার্জিত সম্পদ চুরি ফরিদগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে বসতঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ৪

ধানুয়া মাদ্রাসার কাগজপত্র জালিয়াতির দায়ে জেলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ

ফরিদগঞ্জ সংবাদ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ৬২৪ বার পড়া হয়েছে
জালিয়াতির দায়ে হাবিবুন্নবী মোঃ মহিউদ্দিন নামে এক মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জেলে পাঠিয়েছে আদালত।
রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আদালতের বিচারক মোঃ মোরশেদুল আলম এ আদেশ দেন। তার বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শ্রীপুর ইসলামিয়া কামিল (এম.এ.) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, এইচ.এম. মহিউদ্দিন ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নৈতিক স্খলনসহ মাদ্রাসার শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫/২/২০২৩ তারিখে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং মাদ্রাসা কমিটি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামে ৬৬০/২০২৩ইং মামলা দায়ের করেন। এই অবস্থায় এইচ.এম. মহিউদ্দিন মাদ্রাসার স্বার্থ ও শৃঙ্খলা বিরোধী কাজে পুনরায় লিপ্ত হলে মাদ্রাসা কমিটি ১/১/২০২৪ইং তারিখে তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, বসিলা, ঢাকা বরাবর আবেদন করে। এরপর গত ৬/২/২০২৪ তারিখে তিন দিনের একটি ছুটির আবেদন (৬/২/২০২৪ হতে ৮/২/২০২৪ পর্যন্ত) মাদ্রাসায় রেখে গিয়ে আর কর্মস্থলে যোগ দেননি তিনি। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এরইমধ্যে তথ্যগোপন করে তিনি শ্রীপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, বুড়িচং, কুমিল্লায় অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেছেন। যা নিয়ে গত ১৩ মার্চ, ২০২৪ তারিখে জাতীয় এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এক পর্যায়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল মান্নান ফোন করে ধানুয়া ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ হারুনুর রশিদের কাছে এইচ.এম. মহিউদ্দিনকে প্রদত্ত ছাড়পত্র সম্পর্কে জানতে চান৷ কোন ছাড়পত্র তাকে দেওয়া হয়নি নিশ্চিত করলে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান হোয়াটসঅ্যাপে ধানুয়া ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদের কাছে একটি ছাড়পত্র প্রেরণ করলে এইচ.এম. মহিউদ্দিনের জালিয়াতির বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে এইচ.এম. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং সি.আর. ১৭৮/২৪। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ প্রদান করে। তদন্ত শেষে পিবিআই এইচ.এম. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি, অবৈধ সীল মোহর তৈরী, জাল ছাড়পত্র প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করায় পেনাল কোডের ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় সুনির্দিষ্ট অপরাধে প্রমাণ পেয়েছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করে। গত ২২/৯/২০২৪ইং তারিখে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ধানুয়া মাদ্রাসার কাগজপত্র জালিয়াতির দায়ে জেলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ

আপডেট সময় : ১১:৪৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪
জালিয়াতির দায়ে হাবিবুন্নবী মোঃ মহিউদ্দিন নামে এক মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জেলে পাঠিয়েছে আদালত।
রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আদালতের বিচারক মোঃ মোরশেদুল আলম এ আদেশ দেন। তার বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শ্রীপুর ইসলামিয়া কামিল (এম.এ.) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, এইচ.এম. মহিউদ্দিন ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নৈতিক স্খলনসহ মাদ্রাসার শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫/২/২০২৩ তারিখে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং মাদ্রাসা কমিটি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামে ৬৬০/২০২৩ইং মামলা দায়ের করেন। এই অবস্থায় এইচ.এম. মহিউদ্দিন মাদ্রাসার স্বার্থ ও শৃঙ্খলা বিরোধী কাজে পুনরায় লিপ্ত হলে মাদ্রাসা কমিটি ১/১/২০২৪ইং তারিখে তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, বসিলা, ঢাকা বরাবর আবেদন করে। এরপর গত ৬/২/২০২৪ তারিখে তিন দিনের একটি ছুটির আবেদন (৬/২/২০২৪ হতে ৮/২/২০২৪ পর্যন্ত) মাদ্রাসায় রেখে গিয়ে আর কর্মস্থলে যোগ দেননি তিনি। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এরইমধ্যে তথ্যগোপন করে তিনি শ্রীপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, বুড়িচং, কুমিল্লায় অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেছেন। যা নিয়ে গত ১৩ মার্চ, ২০২৪ তারিখে জাতীয় এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এক পর্যায়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল মান্নান ফোন করে ধানুয়া ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ হারুনুর রশিদের কাছে এইচ.এম. মহিউদ্দিনকে প্রদত্ত ছাড়পত্র সম্পর্কে জানতে চান৷ কোন ছাড়পত্র তাকে দেওয়া হয়নি নিশ্চিত করলে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান হোয়াটসঅ্যাপে ধানুয়া ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদের কাছে একটি ছাড়পত্র প্রেরণ করলে এইচ.এম. মহিউদ্দিনের জালিয়াতির বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে এইচ.এম. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং সি.আর. ১৭৮/২৪। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ প্রদান করে। তদন্ত শেষে পিবিআই এইচ.এম. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি, অবৈধ সীল মোহর তৈরী, জাল ছাড়পত্র প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করায় পেনাল কোডের ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় সুনির্দিষ্ট অপরাধে প্রমাণ পেয়েছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করে। গত ২২/৯/২০২৪ইং তারিখে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।